Home » ঈদ সংখ্যা ২০২২ » অমানুষের গল্প-রেজাউল করিম রোমেল

অমানুষের গল্প-রেজাউল করিম রোমেল

Spread the love

নাম মোঃ রকি হাসান। সবাই রকি নামে চেনে। এবং রকি নামে ডাকে। রকির শিশুকাল কেটেছে ঢাকার কোন এক বস্তিতে তার খালার বাড়িতে। শিশু বয়সে রকি দেখত চার পাঁচ জন লোক তার খালা খালুর কাছ থেকে টাকা নিয়ে যেত। যদি খালা খালু ওই চার পাঁচ জন লোক কে টাকা না দিত তাহলে মারধর করতো। জোর করে টাকা নিয়ে যেত। টাকা না পেলে ঘরের জিনিসপত্র নিয়ে যেত। আর বলতো,

“ আসলাম ভায়ের আস্তানায় টাকা দিয়া তর ঘরের জিনিস পততর লইয়া আইছ। ”

শুধু যে রকির খালা খালুর সাথে এমন ব্যবহার করতো তা নয়। লোকগুলো বস্তির সবার কাছ থেকেই টাকা নিত। আর টাকা না দিলে মারধর করতো। জোর করে বাড়ির জিনিসপত্র নিয়ে যেত।

আসলাম ভায়ের কথা শুনলে বস্তির সবাই ভয় পেত।

রকি দু একবার দেখেছে আসলাম ভাই-কে। সাদা পাগড়ি, সাদা পাঞ্জাবি, সাদা লুঙ্গি এবং পায়ে থাকতো সাদা জুতো। রকি যে কয়দিন আসলাম ভাই-কে দেখেছে সাদা পোশাকেই দেখেছে। রকি তার খালার কাছে ভাত চায়লে মাঝে মধ্যে খালা খুব মারধর করতো। তাই সে সবসময় স্বপ্ন দেখতো সেও একদিন আসলাম ভাই হবে। কারণ আসলাম ভাই হতে পারলে সবাই তাকে ভয় পাবে। ভাত খেতে চায়লে তার খালা তাকে আর মারধর করবে না। রকির খালু ঢাকা শহরে রিক্সা চালায়। আর খালা মানুষের বাড়িতে কাজ করে। খালার দুই ছেলে এক মেয়ে। রকি তার খালাতো ভাই বোনদের থেকে বয়সে বড়। রকির জন্মের আগে রকির বাবা নিখোঁজ হয়। আর মা রকির জন্মের কিছুদিন পর এক অজানা রোগে মারা যায়। এরপর থেকে সে খালার বাড়িতেই থাকে।

রকি সাত আট বছর বয়স থেকে চায়ের দোকানে কাজ করতো। তৈরী করা গরম চা বিভিন্ন দোকানে বা অফিস আদালতে নিয়ে যেত এবং চা খাওয়ার পর রকি খালি চায়ের কাপ নিয়ে আসত। চায়ের দোকানে কাজ করার সময় সাপ্তাহিক যে টাকাটা পেত সেটা তার খালু এসে নিয়ে যেত। রকি তার পারিশ্রমিকের একটি টাকাও কোনো দিন হাতে পেত না। মানুষের কাছে চা পৌছে দেওয়ার সময় অনেকেই অনেক আজে বাজে কথা বলতো। কেউ গালাগালি দিত, মারধর করতো। অনেকে বলতো –

“ এই, চা আনতে এতো দেরি হয় ক্যান? ”

কেউ বলতো –

“ এই পিচ্চি চা এতো ঠান্ডা ক্যান? ”

একদিন এক গাড়ির গ্যারেজের মালিকের চা পৌছে দিতে দেরি হওয়ায় সে রেগে গিয়ে রকি-কে বললো –

“ হেই পিচ্চি চা আনতে এতো দেরি হয় ক্যান? এতো দেরি হয় ক্যান? এই কান ধর, কান ধর। ”

লোকটা খুব চিৎকার করে রকি-কে এই কথাগুলো বলতে লাগল। আর রকি লোকটার কথামত কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকল। তারপর গাড়ির গ্যারেজের মালিক চায়ে চুমুক দিয়ে বললো –

“ এই চায়ে এতো চিনি দিছোছ ক্যা? এই; এইডা কি চা বানায়ছোছ? ”

রকি বললো –

“ চা তো আমি বানাই নাই ভাই। রবিউল ভাই চা বানায়ছে। ”

লোকটা আরো ক্ষেপে গিয়ে বললো –

“ তুই আমার মুখে মুখে তর্ক করছ। এদিক আয়, এদিক আয়। ”

লোকটি রকি-কে তার কাছে ডেকে নিয়ে বললো –

“ তোর চা এতো ঠান্ডা ক্যা। ”

কথাটা বলতে বলতে লোকটি তার হাতে থাকা গরম চা রকির মাথায় ঢেলে দিল। তারপর বললো –

“ যা ভাগ। তোর চায়ের কোনো টাকা হইব না। ”

রকি কাঁদতে কাঁদতে চায়ের কাপ নিয়ে চলে যেতে লাগল। হটাৎ-ই তার চোখে পড়ল একটা মোটা এবং লম্বা রড। রকি রডটা উঠিয়ে ঘুরে দাঁড়াল। তারপর দৌড়ে গিয়ে গাড়ির গ্যারেজের মালিকের মাথায় জোরে বেশ কয়েকটা আঘাত করল। ফলে লোকটা মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। মাথায় হাত দিয়ে দেখল তার মাথা দিয়ে রক্ত ঝরছে। সাথে সাথে সে চিৎকার করে বললো –

“ এই ক্যাডা আছোছ ওই পিচ্চিডারে ধর। ও আমার মাথা ফাডাইয়া দিছে। ”

রকি কি করবে ঠিক বুঝে উঠতে পারছিল না। সে ডানে বামে দু একবার তাকিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করল।আর রকির পিছনে গ্যারেজের কর্মচারীরা দৌড়াতে লাগল তাকে ধরার জন্য। কিন্তু তাকে ধরতে পারল না। তারপর ওইদিন রাত নয়টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ পোস্তগোলা ব্রিজের নিচে বসে ছিল। সে বাড়ি ফিরবে কি করে বুঝতে পারছে না। সারাদিন কিছুই খাওয়া হয়নি। হটৎ-ই সে দেখল চার পাঁচ জন লোক দুজন লোককে ঘিরে ধরেছে আর বলছে –

“ এই যা আছে তাড়াতাড়ি দিয়া দে। ” 

রকি বুঝতে পারল চার পাঁচ জন লোক যারা দুই জন লোককে ঘিরে ধরেছে তারা ছিনতাইকারী। লোকগুলো ছিনতাই করে যাওয়ার সময় দেখল অন্ধকারের ভিতরে একটি ছেলে  বসে আছে। লোকগুলোার ভেতর থেকে একজন বললো,

“ ওই দ্যাখ। ওইখানে একটা বাচ্চা পোলা বইয়া রইছে না? চলতো গিয়া দেহি! ”

রকির কাছে গিয়ে বললো,

“ এই তুই ক্যাডারে? এতো রাতে এইহানে কি করছ? ”

ছিনতাইকারী লোকগুলোর মধ্যে আর একজন বললো,

“ ভাই এই পোলাডারে আমি চিনি। আমাগো পাশের বস্তিতে থাহে। নাম রকি। আইজ ওই পাড়ার গ্যারেজের মালিকের মাথা ফাটাইয়া দিয়া এইহানে বইসা রইছে। ”

“ কছ কি? তুই এইটুক একখান পিচ্চি পোলা হইয়া গ্যারেজের মালিকের মাথা ফাটাইয়া দিছোছ? চল আমাগো লগে চল। ওই ওরে আমাগো লগে লইয়া আয়। ”

লোকগুলো রকিকে আরমান ভায়ের আস্তানায় নিয়ে গেল। রকি আরমান ভাই-কে দেখল এবং মনে মনে বলতে লাগল তাহলে এই সেই আরমান ভাই। যার নাম শুনলে সবাই ভয় পায়। লোকটি দেখতে কালো। কালো গোঁফ। সাদা পোশাক পড়া। একটি রাজকীয় চেয়ারে পায়ের উপর পা তুলে বসে সিগারেটে টান দিয়ে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বললো,

“ কি রে কাজ হইছে ঠিক মতন? ”

ছিনতাইকারী লোকগুলোর মধ্য থেকে সাইফ বললো,

“ জ্বী ভাই। ”

“ তাইলে টাকা গুলান মানিক্যার কাছে রাইখা যা। কালকা আইছ। ”

হটাৎ করে আরমান ভাই রকির দিকে তাকিয়ে বললো,

“ এই পিচ্চি পোলাডা ক্যাডারে? ”

সাইফ বললো,

“ ভাই এ্যার নাম রকি। এক গ্যারেজ মালিকের মাথা ফাটাইয়া পোস্তগোলা ব্রীজের তলে পালায়য়া ছিল। ”

“ আচ্ছা ঠিক আছে। ওরে রাইখা যা। ”

লোকগুলো রকি-কে আরমান ভায়ের কাছে রেখে চলে গেল। আরমান ভাই রকি-কে ডেকে বললো,

“ এই পোলা তোর নাম কি? ”

“ রকি। ”

“ তুই এক ব্যাটার মাথা ফাটাইয়া দিছোছ? ”

“ হ ”

“ ক্যা? ”

“ হ্যায় আমার মাথায় গরম চা ঢাইলা দিছিল। ”

“ও এই কথা। আচ্ছা ঠিক আছে তুই অহুন থ্যাইককা আমার কাছে থাকবি। তরে কেউ কিছু কইতে পারব না। আমার কাছে আয়। আমার পা দুইখান টিইপপা দে। ”

রকি আরমান ভায়ের কাছে গিয়ে তার পা টিপে দিল।

আরমান ভাই অনেক ক্ষমতাবান। তার মূল কাজ হল মাদক ব্যবসা, অস্ত্র ব্যবসা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, জমি দখল ইত্যাদি। আর তার এই কাজ করার জন্য সে পুলিশকে প্রতিমাসে টাকা দেয়। তার এই অপকর্ম যেন সে ঠিকমত করতে পারে সেজন্য প্রতিমাসে যে টাকা দেয় তা মন্ত্রী লেবেল পযন্ত যায়। তাই তার কাজে কেউ বাঁধা দিতে পারে না। তার লোকবলও অনেক। এজন্য সবাই আরমান ভাইকে ভয় পায়।

কিছুদিন হল রকির কোনো খোঁজ নেই। রকির খালা খালু দু তিনদিন খুঁজাখুঁজির পর এখন খুঁজাখুঁজি করা বন্ধ করে দিয়েছে। তারা ভেবেছে রকি হয়তো কোথাও চলে গিয়েছে, আর হয়তো ফিরে আসবে না। হটাৎ একদিন রকি তাদের বস্তিতে এসে হাজির। তার খালা বাড়ি এসে খালাকে ডাকল,

“ খালা, ও খালা তুমি কই? ”

খালা ঘর থেকে বেরিয়ে চিৎকার করে বললো,

“ রকি, তুই এতোদিন কই আছিলি? আহাম্মকের পোলা আহাম্মক। তুই বাপের বয়সি একজন মানুষের মাথা ফাটাইছোছ। ও ব্যাটা তোরে পাইলে মাইরা ফালাইব। ”

“ খালা তুমি আস্তে কথা কও, বেশি চেঁচাইয়ো না। আমি অহন ওই গ্যারেজের মালিকের লগে কথা কইয়া আইলাম। আমি আরমান ভায়ের লগে কাম করি। এহন আমি তার সহকারী। আরমান ভাই ওই গ্যারেজের মালিক ব্যাটার লগে আমার ঝগড়া বিবাদ মিমাংসা কইরা দিছে। কিছু বুঝছো? ”

খালা চোখে ভয় নিয়ে মুখে হালকা হাসি দিয়ে বললো,

“ হ…   হ…  হ… বাবা ভাল আছি। আয়, বয়, ভাত খাইয়া যা। ”

খালার কথামত রকি খেতে বসে গেল। খালা তাকে অনেক যতœ করে খাওয়াল। আর আস্তে আস্তে রকির কানের কাছে গিয়ে বললো,

“ আমাগো ব্যাপারটা দেহিছ। আরমান ভাই-রে কইবি আমাগো কাছ থেইকা যেন চাঁদা না লয়। ”

“ আচ্ছা কমুনে। ”

রকি মনে মনে ভাবতে লাগল মাস দেড়েক আগে সে খালার কাছে ভাত খেতে চাইলে বকাবকি করতো। অনেক দিন ছিল ভাত খেতে দিত না। আজ সেই খালা তাকে যতœ করে ভাত খেতে দিচ্ছে। সে যদি আরমান ভায়ের মত হতে পারে তাহলে শুধু তার খালা কেন সবাই তাকে ভয় পাবে।

রকি আরমান ভায়ের কাছে থেকে অনেক অবৈধ কাজ করতো। ছিনতাই, অবৈধ মালপত্র আনা নেওয়া, মাদক দ্রব্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া এবং নিয়ে আসা ইত্যাদি কাজ করতো। এসব কাজ করতে গিয়ে রকি অনেক সময় পুলিশের হাতে ধরা পড়ে জেলও খেটেছে। আরমান ভায়ের লোক হওয়ার কারনে জেল হাজত রকিকে আটকে রাখতে পারেনি। আরমান ভায়ের নির্দেশে রকি অনেক মানুষও খুন করেছে।

দেখতে দেখতে বার তেরটা বছর কেটে গেল। রকি এখন বয়সে তরুণ। এবং আরমান ভায়ের একজন বিশ্বস্ত লোক। ইদানিং আরমান ভায়ের একজন প্রতিদ্বন্দী তৈরী হয়েছে। নাম জাহাঙ্গীর। আর তাই আরমান ভাই রকি-কে বললো সে যেন জাহাঙ্গীরকে খুন করে । যাতে আরমান ভায়ের রাস্তা পরিস্কার হয়ে যায়। এবং সে যেন আগের মত তার কাজকর্ম চালিয়ে যেতে পারে। রকি একদিন সুযোগ বুঝে জাহাঙ্গীরকে গুলি করে হত্যা করার চেষ্টা করল। কিন্তু রকি জাহাঙ্গীরকে হত্যা করতে পারল না। রকি যখন গুলি চালাল তখন গুলিটা জাহাঙ্গীরের হাতে লাগল। তারপর জাহাঙ্গীরের সাথে থাকা লোকজন রকি-কে ধরে ফেললো। এবং জাহাঙ্গীরের আস্তানায় নিয়ে গেল।

তারপর জাহাঙ্গীর ভাই রকিকে বললো,

“ আমারে মারোনের ল্যাইগা আরমান ভাই তোমারে কত টাকা দিছে? ”

রকি জাহাঙ্গীর ভায়ের কথার কোনো উত্তর দিল না। তখন জাহাঙ্গীর ভাই রেগে গিয়ে রকির মুখে জোরে একটা চড় দিয়ে বললো,

“ ঠিক ঠিক উত্তর দে। না হইলে কিন্তু তরে মাইরা ফালামু। ”

রকি বললো,

“ হ টাহা দেয় ”

“ কত টাহা দেয়? ক। না হইলে কিন্তু তরে মাইরা হালামু। ”

“ এক একটা মানুষ খুন করতে কখনো এক লাখ আবার কখনো দেড় লাখ টাকা দেয়। ”

“ আমারে মারোনের লাইগা আরমান তরে কত টাকা দিতে চায়ছে? ”

“ আমারে কিছু বলে নাই। ”

“ তোর আরমান ভাই তোদের মত রকির ঘাড়ের উপর হাত দিয়া আজ কোটি কোটি টাকার মালিক। বাড়ি করছে গাড়ি করছে। আর তুই কি করছোছ? তোর কি আরমান ভায়ের মত হইতে ইচ্ছা করে না? আরমান ভাই বাঁইচা  থাকলে তুই তার জায়গা ক্যামনে দখল লইবি? তুই আরমান রে মাইরা ফালা। তাইলে আরমান ভায়ের এলাকা তোর দখলে চইলা আইব। আর তোরে আমি হেল্প করুম।এই নে একলাখ টাকা। আরমান ভাইরে মারতে পারলে আমি তরে পাঁচ লাখ টাকা দিমু। এই ল ধর। ”

রকি জাহাঙ্গীর ভায়ের কাছ থেকে একলাখ টাকা নিয়ে সোজা আরমান ভায়ের আস্তানায় গিয়ে সরাসরি আরমান ভায়ের রুমে ঢুকে রুমের দরজা বন্ধ করে দিল।

আরমান ভাই বললো,

“ কিরে এতো ব্যস্ত ক্যান? কামডা করতে পারছোছ? জাহাঙ্গীররে মাইরা হালাইতে পারছোছ?

রকি বললো,

“ না ”

“ তাইলে? ”

“ আমি আপনারে মারতে আইছি। ”

আরমান ভাই বিস্ময়ের চোখে রকির দিকে তাকিয়ে বললো,

“ এই তুই কি কছ? তুই কছ কি? ”

“ হ। আমি আপনারে মারতেই আইছি। আপনারে মারতে পারলে জাহাঙ্গীর ভাই আমারে পাঁচ লাখ টাকা দিবো কইছে। সে আমারে এক লাখ টাকা আগেই দিছে। আমার জীবনে একটাই স্বপ্ন আমিও আপনার মতন আরমান ভাই হইতে চাই। আপনার জায়গা দখল করতে জাহাঙ্গীর ভাই আমারে সাহায্য করব। ভাই আমারে মাফ কইরা দিয়েন। ”

আরমান ভাই এ কথাগুলো শুনে চোখ দুটো বড় বড় করে মুখ হা করে রকির দিকে তাকিয়ে থাকল। আর রকি তার মাযা থেকে পিস্তলটা বের করে আরমান ভায়ের বুকে দুই তিনটা গুলি করল। রুমের বাইরে থাকা লোকজন গুলির শব্দ আর চিৎকার শুনে আরমান ভায়ের রুমে এসে ঢুকল। আরমান ভায়ের রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে সবাই অবাক হল।

আরমান ভাই বললো,

“ দাড়াইয়া কি দ্যাহছ? রকিরে ধর। ও আমারে গুলি করছে। ”

রকি অবস্থা বুঝে আরমান ভায়ের ঘরের দরজা খুলে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করল। আর আরমান ভায়ের লোকেরা রকিকে ধরার জন্য তার পেছনে দৌড়াতে লাগল। আর চিৎকার করে বলতে লাগল,

“ রকিরে ধর। ও আরমান ভাইরে গুলি করছে। ”

একটা সময় লোকগুলো রকিকে উদ্দেশ্য করে গুলি করতে শুরু করল। তাদের করা দুটো গুলির একটা রকির পায়ে আর একটা পিঠে লাগল। এবং সাথে সাথে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যন্ত্রনায় ছটফট করে চিৎকার করতে লাগল। লোকগুলো রকির কাছে আসল। তারপর আরমান ভাইকে ফোন দিল। আরমান ভাই বললো,

“ ওরে গুলি কইরা মাইরা ফালা। আর তাড়াতাড়ি আয়। আমার শরীর দিয়া অনেক রক্ত ঝরতাছে। আমারে হাসপাতালে লইয়া চল। ”

“ জ্বী ভাই, আইতাছি। ”

কথাটা বলে লোকগুলোর ভিতরে একজন রকির মাথার উপরে পিস্তল ধরল। যখনিই গুলি করবে ঠিক তখন রাস্তা দিয়ে একটি গাড়ি হর্ণ বাজাতে বাজাতে আসতে থাকে। লোকগুলো দেখল একটা পুলিশের গাড়ি হর্ণ বাজাতে বাজাতে তাদের দিকেই আসছে। তখন তারা রকিকে গুলি না করে দ্রুত দৌড়ে পালালো।

এরপর তিনদিন পার হল। আরমান ভাই এবং রকি দুজনেই হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। আরমান ভায়ের লোক দেখানো কিছু আইনসম্মত ব্যবসা আছে এবং সে রাজনীতির সাথে জড়িত। আর তাই বিভিন্ন পত্রিকায় খবর এলো বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও রাজনীতিবীদ আশিকুর জামান আরমান ওরফে আরমান ভাই নিজের দেহরক্ষী দ্বারা গুলিবিদ্ধ। ধরনা করা হচ্ছে আরমান ভাই তার কোনো শত্রু পক্ষের স্বীকার হয়েছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন। আরমান ভায়ের উপর যে গুলি চালিয়েছিল সেই দেহরক্ষী রকিকেও আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার  করা হয়েছে। বর্তমানে সে পুলিশ হেফাজতে আছে।

রকি পুলিশ হেফাজতে হাসপাতালের বিছানায় ব্যাথায় ছটফট করছে আর মনে মনে ভাবছে সে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আরমান ভায়ের মত ক্ষমতাবান হয়ে উঠবে। এবং আরমান ভায়ের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। কারণ জাহাঙ্গীর ভাই তাকে সবধরনের সহযোগীতা করবে। জাহাঙ্গীর ভাই তাকে নিজ মুখে বলেছে। ছোট বেলা থেকে যে স্বপ্ন বুকে লালন করে বড় হয়েছে অল্প কিছু দিনের মধ্যে তা বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। কিছুদিন পর সে-ই হবে ক্ষমতাবান রকি ভাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*