Home » 2020 » August

Monthly Archives: August 2020

মোস্তাফিজুর রহমান‘র কবিতা

ওগো শেখ মুজিবুর রহমান

গরীব দুঃখীর বেদনায় ব্যথিত হৃদয়

গণমানুষের অধিকার আদায়ে এক অকুতোভয়

লড়াকু সৈনিক সাহসী বীর সন্তান।

অনিয়মের বিশাল যুদ্ধে অসীম অভিযান;

মানুষকে ভালোবেসে, ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে

সহস্র সংগ্রামে বঞ্চিতের অধিকার আদায়ে;

পিছুপা হটেনি যেই বলিষ্ঠ নেতৃত্ব

স্বরণযোগ্য সেই আদর্শ প্রতিটি মুহূর্ত।

মুক্তির বার্তায় করেছ আজন্ম ঋনী

এই ঋন হবেনা শোধ কোনদিনই,

পিতা তোমার অস্বাভাবিক চলে যাওয়া!

কোনোভাবেই কোনোকালে যায়না মেনে নেওয়া

নিশ্চিহ্নে তোমায় ঘৃনিত তারা সর্বজনে

চির অম্লান তুমি বাঙালি প্রাণে।

তুমি শ্রেষ্ঠ তুমি মহান

তুমি বাঙালি তুমি অম্লান

ওগো শেখ মুজিবুর রহমান।

গোলাম মোস্তফা মুন্না’কবিতা

ঘুঘুর পায়ে শব্দে

শারদের ঘুঘুর পায়ে

প্রতিদিন ভোরে

ঘুম ভাঙবে বলে

শরৎকালীন প্রার্থনা ছিল প্রতিটি মুহূর্তে

ভেঙে ভেঙে চোখ গুলো নিয়ে এগিয়ে এসেছি।

ভাবনার জগতে বলাকার মত উড়িয়েছি শতবার

সোনা মাখা রোদে কতশত পারদে পরোক্ষ করেছি।

একদিন আসবে

সেই শব্দ।

যে শব্দ গুলোর জন্য সব কাঁশফুল ফেঁকে হয়ে আছে

রূপ রস গন্ধ যেন বিতৃষ্ণা জড়িয়েছে কোন না কোন সময়

বিয়োজন গুলো সব আয়োজন হয়ে

ঘুঘুর পায়ে শব্দ আসবে-

শাহরিয়ার সোহেল‘র কবিতা

অলৌকিক-লৌকিক

জমিনকে ধরে রাখে পানির স্তর

পানির ওপর ভাসছে ভূমি

ভূমির ওপর উদ্ভিদ ও প্রাণীকূল প্রসারিত

মাথার ওপর পিলারহীন আকাশ

শূন্যে ঝুলন্ত সপ্তম স্তর

ছাতার মতো রক্ষা করে প্রাণ

সূর্যের প্রবল রশ্মিকে করে প্রাণবন্ত

সব কিছুই শূন্যে ভাসমান

শূন্য ধারণ করে সব কিছু

শূন্যর ওপর অস্তিত্ব আমাদের

স্বপ্ন থেকে বাস্তবের দিকে যাত্রা

কিছুনা থেকেই হ্যাঁ এর জন্ম

অলৌকিক রূপান্তরিত লৌকিকে ধাবমান

কবিতাগুলো একান্ত স্ত্রীর মতো

আমার কবিতাগুলো আমাকে দেয়না শান্তি

আমার কবিতাগুলো আমাকে দেয়না শান্তি

যেভাবে আমার স্ত্রী মারা গেছে সন্তানের জন্ম দিতে যেয়ে

তবু কী আশ্চর্য স্বাভাবিক! গহীণ অরণ্যে

ক্যাঙ্গারু বাচ্চাকে পেটের ভেতর নিয়ে দুর্দান্ত দৌড়ায়

বৃষ্টি হবার প্রারম্ভে যে বাতাস বয়ে যায়

তা আজও জাগায় শরীরে রোমাঞ্চ

শুধু স্মৃতি শুধু পড়ে থাকে এক মুঠো ধুলো

ধূসর কুয়াশা ঘিরে একখানি মুখ

কন্টকিত পতাকার ন্যায় রঙিন বিষাদ

এমার একান্ত স্ত্রী আমার কবিতাগুলোর মতোই নিঁখুত

আমার কবিতাগুলো আমাকে দেয়না শান্তি

পত্রহীন তৃষিত মগ্নতায় হিম শীতল আগুন

জি এম মুছা‘র কবিতা

 

 

জাতিকে আর কত অপেক্ষা করতে হবে

 

গভীর এক ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছিল  সেদিন বিশ্বাসঘাতক মোস্তাক শাহীর দোসররা, চিরতরে দেশ জাতিকে ধ্বংসের পরিকল্পনায় লিপ্ত হয়েছিল, উৎশৃংখল একদল বিপথগামী সেনা সদস্যরা। হঠকারী সিদ্ধান্তে পনেরেই আগস্ট উনিশ ‘শ পচাত্তর, রাতের শেষ প্রহরে, আঁধার তখনও কাটেনি, পূর্ব আকাশে সূবে-সাদেকের অপেক্ষায়, হয়তোবা অঘোরে ঘুমোচ্ছিল দেশসুদ্ধ মানুষ, সঙ্গে ছোট্ট শিশু রাসেল ও তখন বঙ্গমাতার বুকে মুখ লুকিয়ে ঘুমে অচেতন। দিনের আলো ফোটার বেশ খানিকটা বাঁকি, আচমকা গুলির শব্দে কেঁপে উঠল সবাই , নরপিশাচদের বুলেটের আঘাতে বক্ষ বিদীর্ণ করলো অবিসংবাদিত নেতা কালের কিংবদন্তি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালির সন্তান বঙ্গবন্ধু জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সকলকে অত্যন্ত নিষ্ঠুর নির্মম ও নৃশংস ভাবে জাতির শত্রু দুস্কৃতিকারীরা হত্যা করেছিলো। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই শত্রুর ছোড়া মুহুর্মুহু গুলির আঘাতে বুকের তাজা রক্তে রঞ্জিত হলো ধানমন্ডির বত্রিশ নম্বর বাড়ির সবকটি ঘর, সিঁড়িতে বয়ে গেল রক্তের প্লাবন, ক্ষমা করিনি বঙ্গমাতাকে, কামাল ,জামাল নব পরিণীতা রোজী জামাল, সুলতানা কামাল কেও, রক্তপিপাসু বর্বর খুনিরা ছোট্ট শিশু রাসেলকেও ক্ষমা করেনি সেদিন, কি অপরাধ ছিল তাঁর? বাড়িটি ঘিরে শুরু হয়েছিল মহা এক হত্যাযজ্ঞের রক্তের হোলি খেলা, এখানেই শেষ নয় হত্যাযজ্ঞের পর উৎসব পালনে এই খুনিরা ট্যাংক লরি, সাঁজোয়া বহর নিয়ে রাস্তায় নেমে উল্লাসে ফেটে পড়েছিল রাজধানীর অলি গলি জুড়ে। ভোর হতে না হতেই গোটা দেশজুড়ে নেমে এলো ভয়ঙ্কর বীভৎস কালো মেঘের ঘনঘটা, দিশেহারা সাধারণ মানুষ, অজানা আশঙ্কায় ভীত সন্ত্রস্ত গোটা দেশবাসী, তারপর যা ঘটলো আমাদের সকলের তা জানা। সে এক মর্মান্তিক করুন ইতিহাসের কালো অধ্যায়ের সৃষ্টি হলো। দেশ ও জাতির সে কলংকমুক্ত করতে জাতিকে অনেকটা বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল, অধীর আগ্রহে আজও জাতি প্রহর গুনছে, সম্পূর্ণ কলঙ্কমুক্ত করতে জাতিকে আর কত অপেক্ষা করতে হবে?

 

রাজ পথিক‘র কবিতা

মুহ্যমান ১৫ই আগষ্ট

 

হে কবি… লিখে দিও একটি দামাল স্বপ্নের গান শ্যামল গাঁয়ের সুবোধ খোকাটির, প্রেমিক হয়ে ওঠার গান। দেশ প্রেমে অমর কীর্তিগাঁথা যার অবদান, মাটির সোঁদা গন্ধে – দেশ ও জাতির মঙ্গলে সদা ব্যাকুল ছিলো যার পরান।

কবি…একটা গান লিখো, দ্রোহের গান যে গানে ভাসবে সুর, সেই বজ্র কণ্ঠের আহ্বান। আপন সুখ ভুলে যে কণ্ঠ, বাঁচাল দেশের মান বিশ্বের বুকে আমরা পেলাম ‘স্বাধীন বাংলা’র সম্মান।

একটা গান লিখো কবি, বিজয়ের গান… প্রতিটি অন্তরায় রবে শেখ মুজিবুর রহমান। শেষের অন্তরায় রেখো কবি, পাঁজর ভাঙা শোকের টানৃ

বিশ্বাস ঘাতক, মুনাফেকের দল… নির্মম বুলেটে কাড়ল জাতির পিতা’র প্রাণ। ১৫ই আগষ্টের সেই কালরাতে অসমাপ্ত গান লিখতে বসে কবি নিজেই শোকে মুহ্যমান।

 

অদৃশ্য মারণাস্ত্র

 

 

থমকে গ্যাছে পৃথবীর

অদৃশ্য মারণাস্ত্রে ধুকছে মানুষ,

হারাচ্ছে নিজস্ব সঞ্জীবনী।

এ য্যানো মহা প্রলয়ের

নিভৃতে চালানো তাণ্ডব।

থমকে গ্যাছে জীবন,

তেড়ে আসছে স্থিতি ধ্বস।

পৃথিবীর বুকে প্রজ্জ্বলিত সূর্যটা

করাল গ্রাসের চলছে আয়োজন।

জীবনের তাগিদে চাই যুদ্ধৃ.

প্রাত্যহিক যুদ্ধের প্রয়োজন।

চাই গণজাগরণ-.

ঘাতক করোনা’কে রুখতে

সচেতনতাই একান্ত প্রয়োজন।