Home » 2022 » April

Monthly Archives: April 2022

রাজ পথিক’র কবিতা-ফেরারি

ঘুম আসে না…!

স্যাঁতসেঁতে দুটি চোখে ঘুম আসে না,

প্রতি রাতে সরব হয় একাকি ভাবনা।

জেগে থাকি আমি একা,

মাঝে মাঝে চাঁদের দেখা

কখনো বা সঙ্গী আঁধার বিহঙ্গীর নিনাদ,

অভিমানী ভাবনার বেকার প্রতিবাদ।

কখনো সখনো দলছুট তারা’র হাতছানি

বিদ্রুপ হেসে বলে, নিশিকল্পের গল্প বলো শুনি।

বিষাদ সাগরে নিমজ্জিত হই

হৃদয় তটে চষে বেড়ায় ব্যথার মই!

মোহনায় আছড়ে পড়ে বিচ্ছিন্ন ঢেউ

তাড়না করে হাজার অতীত ফেউ।

ভোরের সূর্য ওঠার আগেই দু’চোখ ঝাপসা

ডুকরে ওঠা কান্নায় ঘিরে ধরে শুধু হতাশা!

আমার আমি’কে খুঁজেফিরি,

অলিগলি বেয়ে করি কষ্টের ফেরি।

নিঃসীম অন্ধকারে চোখ মেলে দেখি,

কখন যেন সেই আমি, হয়ে গেছি ফেরারি!

অরুণ বর্মন’র কবিতা-ছায়ার সঙ্গে যুদ্ধ

নিরন্তর আমি পদাঙ্ক অনুসরণ করি

আমার ছায়াকে;

ক্রমাগত আমি হেঁটে চলি আমার ছায়ার সঙ্গে।

হাঁটি আর ভাবি

এটা আমার ছায়া নাকি ছায়ার আমি।

ছায়ার সাথে আমার যুদ্ধে

জীবনভরই হেরে যাই আমি;

বেঁচে থাকি ছায়ামানুষ হয়ে।

পূর্বাহ্নের ডগমগে সূর্যের কিরণ

যখন আমার শরীর বরাবর—

আমার ছায়া আমাকে ছাড়িয়ে বহুদূর—

যেন সে ডেকে বলে আত্মবিশ্বাসী হয়ে

আমার মতো দীর্ঘ আকার ধারণ করো।

তখন আমার অতি আবেগি মন

ভাবতে ভাবতেই সূর্য মধ্যগগনে—

সমস্ত আস্ফালন হাওয়ায় মিলিয়ে

দায়িত্বভারে নুব্জ ছায়া শরীরের গন্ধে

মুখ ফিরিয়ে খর্বকার।

দ্রুত সূর্য আপন গতিতে পশ্চিম দিগন্তে হেলে পড়ে

অভিজ্ঞতার ছায়া আবারও দীর্ঘ হতে হতে—

শরীর ছাড়িয়ে মন্দির মসজিদ প্যাগোডা বরাবর—

কিন্তু সময় সংক্ষিপ্ত

এখনই সূর্য ডুবে যাবে কালের গহীনে।

ছায়াও গ্রাস করবে শরীরকে।

নিঃসীমতায় ঢেকে যাবে সমস্ত অলংকার।

অতঃপর—

!

!

!

ছায়া ছবি রূপ নেবে ছায়াছবিতে।

এম এ কাসেম অমিয়’র কবিতা-নির্বিকার

ভাবছি না তাই হয়তো কোন কিছু লেখা হচ্ছে না!

যদি ভাবতাম তবে হয়তো লিখতে পারতাম!

এতো বাতাস তবু বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারছি না।

এতো আলো তবু যেন কোন গহীন অন্ধকারে  ডুবে যাচ্ছি!

চারিদিকে যেন কি নেই! কি পাইনি! চলছে হাহাকার!

সবাই যে যার মতো চলছে কোন খেদ নেই, নির্বিকার!

চোখ আছে চাক্ষুষ তবুও যেন দেখছে না! যেন অন্ধ!

মুখ আছে বেবাক তবু  বলছে না!  সব বলা বন্ধ!

কান আছে সবার তবুও শুনছে না!  যেন সব বধির!

তাইতো  চিত্ত আজ বড় চঞ্চল!  হয়ে আছি অধীর!

জাহিদুল যাদু’ কবিতা-তোমাকে বুঝি না

দীর্ঘদিন পাশাপাশি থেকেও আমরা অপরিচিত,

তোমার বুকের মধ্যে বয়ে চলা হাওয়ায় দুলে ওঠে না আমার বুক। এমনকি বুকে বুক মেলালেও সে মোচড় অনুভবে আসে না। চোখের দিকে তাকিয়ে কেবল হারিয়ে যাওয়ার ভান করে যাই(!)গভীরে প্রবেশ করতে পারি না। চুল থেকে নখ আদ্যোপান্ত অপরিচিত, কি ভাবে বলি এ এক বিষম বিভ্রাট! হাসি শুনে মুগ্ধ নয়নে চেয়ে থাকি শুধু, উৎসমূলে পৌঁছুতে পারি না। তোমার হাতে হাত রেখে ব্যথিত হবার ভেক ধরি,বেদনাহত হই না।

আমি শুধু শরীর বুঝি, শরীর খুঁজি,তোমাকে বুঝি না।

২২.০৪.:২২

বর্ষ বিদায় ও বর্ষ বরণ উপলক্ষে কবিতা পাঠ ও আলোচনা সভা

মো. মোস্তাফিজুর রহমান : বাংলা ১৪২৮কে বিদায় আর ১৪২৯ কে স্বাগত জানিয়েছে বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদ (বিএসপি) যশোর। বুধবার বিকালে কবিতা পাঠ ও আলোচনা সভার মধ্যে দিয়ে তাদের বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংগঠনের সভাপতি কবি আহমদ রাজুর সভাপতিত্বে যশোর ইন্সটিটিউটের নাট্যকলা সংসদের ভূপতি মঞ্চে এ কবিতা পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর ইন্সটিটিউটের সাধারণ সম্পাদক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু। আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মো, মুস্তাফিজুর রহমান, কলামিস্ট আমিরুল ইসলাম রন্টু, গবেষক কাজী শওকত শাহী, কবি আনোয়ারুল ইসলাম, ড. শাহনাজ পারভীন, মুক্তেশ্বরী সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি কবি ডা. মোকাররম হোসেন।

বিএসপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মুন্না’র পরিচালনা এসময় বক্তব্য রাখেন কবি জিএম মুছা, ডা. জিজিএ কাদরী, মো. মনিরুজ্জামান, শাহরিয়ার সোহেল, নূরজাহান আরা নীতি, আবুল হাসান তুহিন, রবিউল হাসনাত সজল, মো. মোস্তাফিজুর রহমান, আহমেদ মাহাবুব ফারুক, আবুল হাসান তুহিন, কাজী নূর, জাহিদুল জাদু, তৃষা চামেলি, শংকর নিভানন, শেখ হামিদুল হক, ডা. অমল কান্তি সরকার, সীমান্ত বসু, মানবেন্দ্র সাহা গনেশ, রেজাউল করিম রোমেল, গোলাম রসুল, অরুণ বর্মণ, এম কাসেম অমিয়, বাবুল আহমেদ তরফদার, অ্যাড. মাহমুদা খানম, নজরুল ইসলাম, অশোক বিশ্বাস, প্রভাষক রমজান আলী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বাংলা ১৪২৯ ক্যালেন্ডার বিতরণ করা হয়।

মোস্তাফিজুর রহমান এর কবিতা ‘ যদি চাঁদ হও ‘

তুমি যদি চাঁদ হও আমার আকাশে

বুকের বিছানা দেবো পৃথিবী করে।

তোমার সত্য প্রেমের বিশালতায় নিজেকে রেখে

ভুলে যাবো সব তোমারই সুরে।

এই নিঃশ্বাসে তুমি বিশ্বাস হয়ে যাও

চাইনা জীবনে আর তো কিছুই।

জোছনার সব আলো দেবো না কারো

প্রেমের পৃথিবী জুড়ে রবে শুধুই।

প্রেমের পাখি দুজন প্রেমেরই চর্চায় জন্মান্তর

অমরত্বের স্বাদ যে করবো গ্রহণ।

নিষ্ঠুর বাস্তবে হলেও মোদের প্রস্থান

রেখে যাবো আদর্শ প্রেমের উদাহরণ।

বৃষ্টি ফোঁটার মতো প্রেম হবে জড়ো

তোমার হৃদয় নামক সুখের জান্নাতে।

প্রেমেরই পূণ্যে সেথায় অনন্তকাল রবো

ইচ্ছে মতো পারবে আমায় ভেজাতে।