Home » Author Archives: bspbd

Author Archives: bspbd

বিএসপির সাহিত্য সভা অনুষ্ঠিত

মো. মোস্তাফিজুর রহমান : বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদ (বিএসপি) যশোরের উদ্যোগে শুক্রবার  সকাল ১০টায় ভার্চুয়ালে সাহিত্য সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কবি কাজী রকিবুল ইসলাম। সাহিত্য সভায় আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ড. শাহনাজ পারভীন, কবি পারভীনা খাতুন ও কবি শাহরিয়ার সোহেল।

বিএসপির সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল হাসনাত সজল ও মো. মোস্তাফিজুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মুন্না।

সাহিত্য সভায় কবিতা পাঠ ও আলোচনায় অংশ নেন, কবি ও কলামিস্ট শাহ আলম খসরু, রাশিদা আখতার লিলি, এমএ কাসেম অমিয়, অরুন বর্মণ, জাহানারা খান কোহিনূর, সোনিয়া সুলতানা চাঁপা, হুমায়ন কবীর, স্বপ্না সাহা (ভারত) রাজপথিক,কাজী নূর প্রমুখ।

আগামি ২ জুলাই শুক্রবার পরবর্তী সাহিত্য সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে সভায় জানানো হয়।

বিদ্রোহী কবির জন্মজয়ন্তীতে বিএসপির কবিতা আবৃত্তি ও আলোচনা সভা

মো. মোস্তাফিজুর রহমান : জাতীয় কবি, মানবতার কবি, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২২তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদ (বিএসপি) যশোরের উদ্যোগে ভার্চুয়ালে কবিতা আবৃত্তি, আলোচনাসভা ও সঙ্গীতানুষ্ঠান সোমবার (২৪ মে) বিকালে অনুষ্ঠিত হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কবি কাজী রকিবুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মো. মুস্তাফিজুর রহমান, আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নজরুল গবেষক ড. মীরাতুন নাহার (ভারত), বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, কবি ড. শাহনাজ পারভীন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মুন্না।

মো. মোস্তাফিজুর রহমানের উপস্থাপনার কবিতা আবৃত্তি করেন বাচিক শিল্পী জাহান আরা খান কোহিনূর, শাহরিয়ার সোহেল, স্বপ্না সাহা (ভারত), রবিউল হাসনাত সজল, সোনিয়া সুলতানা চাঁপা, এম এ কাশেম মিয়া, অরুন বর্মণ, কাজী নূর।

সঙ্গীত পরিবেশন করেন শাহ আলম খসরু, শ্যামশ্রী সরকার (ভারত), শাহ নেওয়াজ সজীব প্রমুখ।

বিএসপির ২০৫তম সাহিত্য সভা অনুষ্ঠিত

মোস্তাফিজুর রহমান : বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদ,যশোর (বিএসপি) ২০৫তম মাসিক সাহিত্য সভা ৫ মার্চ শুক্রবার  সকালে প্রেসক্লাব যশোরে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী রকিবুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট গবেষক বেনজিন খান। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি ও শিক্ষাবিদ ড. মুস্তাফিজুর রহমান, বিশিষ্ট কলামিস্ট আমিরুল ইসলাম রন্টু এবং অধ্যক্ষ ও কবি ড. শাহনাজ পারভীন। এছাড়া আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সহসভাপতি কবি জিএম মুছা, মুক্তেশ্বরী সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গাজী শহিদুল ইসলাম।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মুন্না‘র পরিচালনায় কবিতা পাঠ ও আলোচনায় অংশ নেন আমির হোসেন মিলন, নূরজাহান আরা নীতি, রবিউল হাসনাত সজল, আহমদ রাজু, আহমেদ মাহাবুব ফারুক, অ্যাড. মাহমুদা খানম, সাধন কুমার অধিকারী, মুহাম্মদ হাতেম আলী সরদার, শামীম বাদল, সুুরাইয়া শরীফ, শাহরিয়ার সোহেল, অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, রাশিদা আখতার লিলি, ফাতিমা পারভীন, রাজপথিক, হুমায়ন কবীর, সুমন বিশ্বাস, নার্গিস আক্তার নাজমা, মহব্বত আলী মন্টু,

শংকর নিভানন, এএফএম মোমিন যশোরী, এমএ কাসেম অমিয়, রেজাউল করিম রোমেল, সাধন কুমার দাস, মোস্তাফিজুর রহমান, মানবেন্দ্র কুমার সাহা, মো. নজরুল ইসলাম, মোস্তানূর রহমান সাক্ষর,

সংগঠনের আজীবন সদস্য ড. শাহনাজ পারভীন তালবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ হওয়ায় অনুষ্ঠানে তাকে সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এছাড়া সংগঠনের সদস্য কবি মোস্তাফিজুর রহমানের জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানো হয়।

লেখা আহবান

মো. মোস্তাফিজুর রহমান:

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে যশোরের বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদ (বিএসপি) নিয়মিত প্রকাশনা বিদ্রোহী‘র লেখা আহবান জানানো হয়েছে। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী রকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মুন্না স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে আগামী ২০ নভেম্বর এর মধ্যে কম্পোজ করে মেইলে অথবা ডাকযোগে লেখা পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রকাশিত লেখার মধ্যে ভাল লেখার জন্য সম্মানি প্রদান করা হবে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে লেখিয়ে বন্ধুদের কবিতা/ গল্প/প্রবন্ধ/নিবন্ধ ও গবেষণাধর্মী লেখা নিয়ে বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদ, যশোর সাহিত্য সংকলন ‘বিদ্রোহী’ প্রকাশ অব্যাহত রেখেছে। এবার বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী ও মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রকাশিতব্য বিদ্রোহী এ আগামি ২০ নভেম্বর ২০২০ এর মধ্যে লেখা পাঠিয়ে দিন।

আগ্রহী লেখকদের দুটি কবিতা (৩০ লাইন) প্রবন্ধ, নিবন্ধ ও গবেষণাধর্মী (৮শ শব্দ) সরাসরি বা ডাকযোগে পাঠানো অনুরোধ করা হচ্ছে। লেখা কম্পোজ করে সুতোনী এমজে (sutonnyMJ) মেইলে পাঠাতে হবে।

* বিদ্রোহী প্রকাশিত লেখার মধ্যে ভাল লেখার জন্য সম্মানি দেয়া হবে

* লেখক সংখ্যা বিনামূল্যে দেয়া হবে। তবে নিজ দায়িত্বে সংগ্রহ করতে হবে

* ঢাকা গ্রন্থ মেলা, কলিকাতা (আন্তর্জাতিক) বই মেলায় বিদ্রোহী পাওয়া যাবে।

* লেখা পাঠানোর পর ছাপার জন্য যোগাযোগ করার প্রয়োজন নেই

* লেখা অবশ্যই অপ্রকাশিত হবে হবে।

* লেখা পাঠানোর সময় বর্তমান ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ও ইমেইল (যতি থাকে) উল্লেখ করতে হবে।

* লেখা পাঠানোর শেষ তারিখ ২০ নভেম্বর।

*লেখা পাঠানোর ঠিকানা :

ইমেইল : bspjessore@gmail.com.

সরাসরি/ ডাকযোগে-সম্পাদক-বিদ্রোহী, বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদ, কারুকাজ, কেশবলাল রোড,যশোর-৭৪০০

আজ কবি পদ্মনাভ অধিকারীর জন্মদিন

কাজী রকিবুল ইসলাম
বিশিষ্ট কবি, প্রাবন্ধিক ও গবেষক পদ্মনাভ অধিকারীর ১২ অক্টোবর চৌষট্টিতম জন্মদিন। ১৯৫৮ সালের এই দিনে তিনি যশোর পৌরসভার বকচরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ব্রিটিশ খেদাও আন্দোলনী শিক্ষক নলিনীকান্ত অধিকারী, মাতা-গৌরী অধিকারী। চার ভায়ের মধ্যে তিনি সর্বকণিষ্ঠ। কবি পদ্মনাভ অধিকারীর সাহিত্যের হাতেখড়ি সেজভাই ডাক্তার ও সাহিত্যিক মধুসূদন অধিকারীর কাছে ১৯৭৬ সালে এপ্রিল মাসে। তার উল্লেখ্যযোগ্য গ্রন্থ: (১) যাব না (২) অন্তরে অন্তরে (৩) বিধ্বস্ত জনপদ (কাব্য) (৪) চিৎকার (৫) মর্তলোকে দিব্যরথ (কাব্য) (৬) ফেরারী (৭) প্রহরী ও শিশু কিশোর (উপন্যাস) তিন পা-ন্ড-১ম খন্ড (৮) একবৃন্তে (৯) মহর্ষিশী লালন সাঁই (১০) আধুনিকতা ও আধুনিক কবিতা প্রসঙ্গে (প্রবন্ধ)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপ, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার বাংলা সংবাদপত্রে সাহিত্য পাতায় লিখে আসছেন। এ ছাড়া ভারত, বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক ও সাপ্তাহিক এবং মাসিক পত্রিকাতে ১৯৯২ সাল থেকে তার লেখা প্রকাশ হয়ে আসছে। এ পর্যন্ত তার কবিতাসহ, গল্প, প্রবন্ধ, গবেষণা ৬ শ এর অধিক প্রকাশিত হয়েছে।
খুলনার মোহনা সাহিত্য ও সমাজ কল্যাণ সংগঠন কর্তৃক গবেষণা সাহিত্যের জন্য সম্মাননা (২০০৩), সিরাজগঞ্জের ক্যাপটেন মনসুর আলী সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক আজীবন সম্মাননা (২০১২) লাভ করেন। তিনি রূপায়ণ সম্প্রদায় (গবেষণা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি) এবং বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
মাইকেল মধুসূদন দত্ত গবেষণা ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য। সেই সাথে যশোর ইনস্টিটিউট,যশোর শিল্পকলা একাডেমি ও গ্লোবাল জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা পর্ষদের সদস্য। তার সম্পাদিত সাহিত্য পত্রিকার নাম ‘বিদ্রোহী। এছাড়া তার দশটি অন্তমিল কবিতার সুরারোপ ও স্বরলিপি করেছেন বেতারের কণ্ঠশিল্পি সাধন কুমার অধিকারী ও গোপীনাথ দাশ। আজকের এই দিনে তিনি সবার আর্শিবাদ কামনা করেছেন।
২০২১সালের বইমেলায় প্রকাশের জন্য ১। এই হেমন্তে (কাব্য) ২। সিঙ্গেল মাদার (ছোট গল্প।) এর পান্ডুলিপি প্রস্তুত রয়েছে। কবি পদ্মনাভ অধিকারীর জন্মদিনে বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।

মোস্তাফিজুর রহমান‘র কবিতা

ওগো শেখ মুজিবুর রহমান

গরীব দুঃখীর বেদনায় ব্যথিত হৃদয়

গণমানুষের অধিকার আদায়ে এক অকুতোভয়

লড়াকু সৈনিক সাহসী বীর সন্তান।

অনিয়মের বিশাল যুদ্ধে অসীম অভিযান;

মানুষকে ভালোবেসে, ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে

সহস্র সংগ্রামে বঞ্চিতের অধিকার আদায়ে;

পিছুপা হটেনি যেই বলিষ্ঠ নেতৃত্ব

স্বরণযোগ্য সেই আদর্শ প্রতিটি মুহূর্ত।

মুক্তির বার্তায় করেছ আজন্ম ঋনী

এই ঋন হবেনা শোধ কোনদিনই,

পিতা তোমার অস্বাভাবিক চলে যাওয়া!

কোনোভাবেই কোনোকালে যায়না মেনে নেওয়া

নিশ্চিহ্নে তোমায় ঘৃনিত তারা সর্বজনে

চির অম্লান তুমি বাঙালি প্রাণে।

তুমি শ্রেষ্ঠ তুমি মহান

তুমি বাঙালি তুমি অম্লান

ওগো শেখ মুজিবুর রহমান।

গোলাম মোস্তফা মুন্না’কবিতা

ঘুঘুর পায়ে শব্দে

শারদের ঘুঘুর পায়ে

প্রতিদিন ভোরে

ঘুম ভাঙবে বলে

শরৎকালীন প্রার্থনা ছিল প্রতিটি মুহূর্তে

ভেঙে ভেঙে চোখ গুলো নিয়ে এগিয়ে এসেছি।

ভাবনার জগতে বলাকার মত উড়িয়েছি শতবার

সোনা মাখা রোদে কতশত পারদে পরোক্ষ করেছি।

একদিন আসবে

সেই শব্দ।

যে শব্দ গুলোর জন্য সব কাঁশফুল ফেঁকে হয়ে আছে

রূপ রস গন্ধ যেন বিতৃষ্ণা জড়িয়েছে কোন না কোন সময়

বিয়োজন গুলো সব আয়োজন হয়ে

ঘুঘুর পায়ে শব্দ আসবে-

শাহরিয়ার সোহেল‘র কবিতা

অলৌকিক-লৌকিক

জমিনকে ধরে রাখে পানির স্তর

পানির ওপর ভাসছে ভূমি

ভূমির ওপর উদ্ভিদ ও প্রাণীকূল প্রসারিত

মাথার ওপর পিলারহীন আকাশ

শূন্যে ঝুলন্ত সপ্তম স্তর

ছাতার মতো রক্ষা করে প্রাণ

সূর্যের প্রবল রশ্মিকে করে প্রাণবন্ত

সব কিছুই শূন্যে ভাসমান

শূন্য ধারণ করে সব কিছু

শূন্যর ওপর অস্তিত্ব আমাদের

স্বপ্ন থেকে বাস্তবের দিকে যাত্রা

কিছুনা থেকেই হ্যাঁ এর জন্ম

অলৌকিক রূপান্তরিত লৌকিকে ধাবমান

কবিতাগুলো একান্ত স্ত্রীর মতো

আমার কবিতাগুলো আমাকে দেয়না শান্তি

আমার কবিতাগুলো আমাকে দেয়না শান্তি

যেভাবে আমার স্ত্রী মারা গেছে সন্তানের জন্ম দিতে যেয়ে

তবু কী আশ্চর্য স্বাভাবিক! গহীণ অরণ্যে

ক্যাঙ্গারু বাচ্চাকে পেটের ভেতর নিয়ে দুর্দান্ত দৌড়ায়

বৃষ্টি হবার প্রারম্ভে যে বাতাস বয়ে যায়

তা আজও জাগায় শরীরে রোমাঞ্চ

শুধু স্মৃতি শুধু পড়ে থাকে এক মুঠো ধুলো

ধূসর কুয়াশা ঘিরে একখানি মুখ

কন্টকিত পতাকার ন্যায় রঙিন বিষাদ

এমার একান্ত স্ত্রী আমার কবিতাগুলোর মতোই নিঁখুত

আমার কবিতাগুলো আমাকে দেয়না শান্তি

পত্রহীন তৃষিত মগ্নতায় হিম শীতল আগুন

জি এম মুছা‘র কবিতা

 

 

জাতিকে আর কত অপেক্ষা করতে হবে

 

গভীর এক ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছিল  সেদিন বিশ্বাসঘাতক মোস্তাক শাহীর দোসররা, চিরতরে দেশ জাতিকে ধ্বংসের পরিকল্পনায় লিপ্ত হয়েছিল, উৎশৃংখল একদল বিপথগামী সেনা সদস্যরা। হঠকারী সিদ্ধান্তে পনেরেই আগস্ট উনিশ ‘শ পচাত্তর, রাতের শেষ প্রহরে, আঁধার তখনও কাটেনি, পূর্ব আকাশে সূবে-সাদেকের অপেক্ষায়, হয়তোবা অঘোরে ঘুমোচ্ছিল দেশসুদ্ধ মানুষ, সঙ্গে ছোট্ট শিশু রাসেল ও তখন বঙ্গমাতার বুকে মুখ লুকিয়ে ঘুমে অচেতন। দিনের আলো ফোটার বেশ খানিকটা বাঁকি, আচমকা গুলির শব্দে কেঁপে উঠল সবাই , নরপিশাচদের বুলেটের আঘাতে বক্ষ বিদীর্ণ করলো অবিসংবাদিত নেতা কালের কিংবদন্তি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালির সন্তান বঙ্গবন্ধু জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সকলকে অত্যন্ত নিষ্ঠুর নির্মম ও নৃশংস ভাবে জাতির শত্রু দুস্কৃতিকারীরা হত্যা করেছিলো। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই শত্রুর ছোড়া মুহুর্মুহু গুলির আঘাতে বুকের তাজা রক্তে রঞ্জিত হলো ধানমন্ডির বত্রিশ নম্বর বাড়ির সবকটি ঘর, সিঁড়িতে বয়ে গেল রক্তের প্লাবন, ক্ষমা করিনি বঙ্গমাতাকে, কামাল ,জামাল নব পরিণীতা রোজী জামাল, সুলতানা কামাল কেও, রক্তপিপাসু বর্বর খুনিরা ছোট্ট শিশু রাসেলকেও ক্ষমা করেনি সেদিন, কি অপরাধ ছিল তাঁর? বাড়িটি ঘিরে শুরু হয়েছিল মহা এক হত্যাযজ্ঞের রক্তের হোলি খেলা, এখানেই শেষ নয় হত্যাযজ্ঞের পর উৎসব পালনে এই খুনিরা ট্যাংক লরি, সাঁজোয়া বহর নিয়ে রাস্তায় নেমে উল্লাসে ফেটে পড়েছিল রাজধানীর অলি গলি জুড়ে। ভোর হতে না হতেই গোটা দেশজুড়ে নেমে এলো ভয়ঙ্কর বীভৎস কালো মেঘের ঘনঘটা, দিশেহারা সাধারণ মানুষ, অজানা আশঙ্কায় ভীত সন্ত্রস্ত গোটা দেশবাসী, তারপর যা ঘটলো আমাদের সকলের তা জানা। সে এক মর্মান্তিক করুন ইতিহাসের কালো অধ্যায়ের সৃষ্টি হলো। দেশ ও জাতির সে কলংকমুক্ত করতে জাতিকে অনেকটা বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল, অধীর আগ্রহে আজও জাতি প্রহর গুনছে, সম্পূর্ণ কলঙ্কমুক্ত করতে জাতিকে আর কত অপেক্ষা করতে হবে?

 

রাজ পথিক‘র কবিতা

মুহ্যমান ১৫ই আগষ্ট

 

হে কবি… লিখে দিও একটি দামাল স্বপ্নের গান শ্যামল গাঁয়ের সুবোধ খোকাটির, প্রেমিক হয়ে ওঠার গান। দেশ প্রেমে অমর কীর্তিগাঁথা যার অবদান, মাটির সোঁদা গন্ধে – দেশ ও জাতির মঙ্গলে সদা ব্যাকুল ছিলো যার পরান।

কবি…একটা গান লিখো, দ্রোহের গান যে গানে ভাসবে সুর, সেই বজ্র কণ্ঠের আহ্বান। আপন সুখ ভুলে যে কণ্ঠ, বাঁচাল দেশের মান বিশ্বের বুকে আমরা পেলাম ‘স্বাধীন বাংলা’র সম্মান।

একটা গান লিখো কবি, বিজয়ের গান… প্রতিটি অন্তরায় রবে শেখ মুজিবুর রহমান। শেষের অন্তরায় রেখো কবি, পাঁজর ভাঙা শোকের টানৃ

বিশ্বাস ঘাতক, মুনাফেকের দল… নির্মম বুলেটে কাড়ল জাতির পিতা’র প্রাণ। ১৫ই আগষ্টের সেই কালরাতে অসমাপ্ত গান লিখতে বসে কবি নিজেই শোকে মুহ্যমান।

 

অদৃশ্য মারণাস্ত্র

 

 

থমকে গ্যাছে পৃথবীর

অদৃশ্য মারণাস্ত্রে ধুকছে মানুষ,

হারাচ্ছে নিজস্ব সঞ্জীবনী।

এ য্যানো মহা প্রলয়ের

নিভৃতে চালানো তাণ্ডব।

থমকে গ্যাছে জীবন,

তেড়ে আসছে স্থিতি ধ্বস।

পৃথিবীর বুকে প্রজ্জ্বলিত সূর্যটা

করাল গ্রাসের চলছে আয়োজন।

জীবনের তাগিদে চাই যুদ্ধৃ.

প্রাত্যহিক যুদ্ধের প্রয়োজন।

চাই গণজাগরণ-.

ঘাতক করোনা’কে রুখতে

সচেতনতাই একান্ত প্রয়োজন।