Home » ঈদ সংখ্যা ২০২২ (page 3)

ঈদ সংখ্যা ২০২২

সুখ-অজিত কুমার বর্মন

হাত বদলেই মূল্য বোঝা যায় টাকার,

মন ও শরীরের অসুখ হলে বোঝা যায় ঘুম ও সম্পর্কের গুরুত্ব।

গ্রামে না গেলে বোঝা যায় না মাটি ও মানুষের একাত্মতা।

অনেক কষ্টে পাশ করে তারা সম্মানিত হয় বহু,

সময় মতো কেউ থাকেনা পাশে, প্রতিশ্রুতির জোয়ার আসে শুধু।

তারপরও তো বেঁচে আছি, স্বপ্ন ঝড়ে ফাগুন রঙা খরায়,

 অকাল বর্ষা দুঃখ বয়ে আনে, নিদ্রাহীন রাত, অভাব শুধু ছড়ায়।

সময় মতো বর্ষা এলে তবে, কুড়িগুলো ফুল হয়ে ডাল ভরে;

মাটির ঘ্রাণে মন ভরে যায়, সুখ আসে যে ঘরে।।

মন ঝলমল ঝরে-হুমায়ূন কবীর

রোজা নয় সোজা

কষ্টের বোঝা

সারাদিন যেতে হয় বয়ে।

শরীর আর মনের

যুদ্ধ চলে।

পেটে লাগে খুধা

বুকে নেই সুধা।

মন ভেঙে পড়ে।

আবারও গড়ে।

ভেঙে আর গড়ে

উঠে আর পড়ে।

মরতে মরতে বেঁচে থাকা।

চোখ নত রেখে

মন থেকে, থেকে

হিংসা, বিদ্বেষ, ঘৃণা

রাগের নাগিনী ফণা

কাফনে মুড়ে

কঠোর সিয়াম সাধনা।

বিশ্বের ঘরে ঘরে

মুসলিমে করে

একমাস ধরে।

সূর্যের মতো পুড়ে সারাদিন,

চাঁদের মতো করে প্রতিদিন

পূর্ণিমার আনন্দ নিয়ে এলে

 ইফতার, সব কষ্ট যায় ভুলে।

উৎসবে মন নেচে ওঠে।

অবসন্নতা যায় টুটে।

চলে সংযম, উৎসব

পুরো একমাস ধরে।

মুসলিমের ঘরে ঘরে।

অবশেষে ঈদ এসে

পরিপূর্ণ বেশে,

ঝকমক ঝকমক

চারিদিকে চকমক

টলমল টলমল করে।

মন ঝলমল ঝলমল ঝরে।

আশ্রয় চাই -রাম কৃষ্ণ বিশ্বাস

তোমার তরে আর কে আছে

আমার আপনজন?

তোমার আশীষ সবসময়ই,

আমার পরে থাকে, বর্শিত সরল।

কিন্তু আমি তোমার বাছা

স্বার্থ নিয়েই থাকি সদা

তোমায় ভাবি সুযোগমত

বিপদে যখন হই উপনীত।

সদা সময় আপন মনে

চলি জীবন রেখায়,

বিপদ যখন সামনে আসে

অন্ধজনের আলোর মত

তোমাকেই, ভাবি সারাক্ষণ।

তোমার চলে না কোন তুলনা

সৃষ্টি-স্থিতি-প্রলয়ের তরে

জগৎ মাঝে সমান থাকো,

তোমার সৃষ্টিকে সাথেই রাখো

আমি ভাবি, তুমিও আমার মত হলে

আমার অবস্থা তখন কী হবে?

আমায় তুমি দিয়েছো যা

পেয়ে ভাবছি আমার যোগ্যতা

তোমায় মনে নেইনি আমি,

আমি যে তোমার অজ্ঞ জ্ঞানি

আমায় ক্ষমে, আপন গুণে

আশ্রয় দাও, তোমার পাদ্পদ্মে।

মিনতি আমার রাখ প্রভু

আমি যেন তোমায় ছাড়া, না হই কভু।।

গল্পের পরিসমাপ্তি-গোলাম মোস্তফা মুন্না

ন্যাটোর সদস্য হতে চায় ইউক্রেন

শ্রীলঙ্কায় মানুষের মধ্যে প্রচন্ড অভাব

নিস্তার মেলেনি করোনা থেকে

প্রকৃততে শান্তি মিলছে না

শব্দ মিলছে না কবিদের লেখায়

আবোল তাবোল যা পারছি

তাই গাইছি ভোর হতে

সময়ের সঙ্গতি অসঙ্গতি ঢের বসেছে

স্বরবর্ণ ও ব্যাঞ্জন বর্ণের ঘাড়ে

নিত্যানন্দের বাজেট থেকে চন্দ্রবিন্দু খসে খসে পড়ছে

আর বলছে, খুব খুব সুন্দর। চমৎকার, বাহ দারুন ইত্যাদি

ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, টুইটার, ওয়াটআপ

ভরে ফেলেছে বে সুরের বর্ণ

সকাল না হতে -দিন, তারিখের ব্যাগ

ঝুলিয়ে ঘাড় বেকিয়ে চলছে সপিংমল

আর বড় বড় ক্যামেরার সামনে

বোঝ না আর বোঝ সবই অষ্টধাতুর কবিতা

আংটি পরা গল্পের সমাপ্তি

তুমি থামো, এবারকার মত থামো। আমি আসছি তেমন

বলতে চেয়েও থেমে গেল পাশের বাড়ির বট বৃক্ষ

দর্পণ-প্রনব ঘোষ

তোমায় আমি দেখেছিলেম হঠাৎ

অন্ধ গলির শেষে ভাঙা বাড়ি,

খোলা জানলার ফাঁক দিয়ে আয়নায়

দেখি তোমার পরনে লাল শাড়ি।

আয়নাতে ঐ মুখটা তোমার দেখি

জ্বলজ্বলে রূপ, পটলচেরা আঁখি

মুক্তকেশী চুল গুলি সব বুকের উপরে

মুক্তাদানা জমেছে যেনো রাঙা অধরে!

পড়লো যখন হঠাৎ চোখে চোখ—

লজ্জায় রাঙা হলো যেনো রক্তজবা মুখ

সহসা আমার হার্টবিটটা দ্রুতগামী হলো

মন ছুটিল— পা দু’খানি স্থির তবু ছিলো।

হঠাৎ যখন তোমার কথা মনেতে উঠিল

তাকিয়ে দেখি শূন্য ঘর অস্পষ্ট আলো—

তখন আমি আত্নহারায় দেখি উদাস মনে

পড়ে আছে মুখখানি মোর ভাঙা দর্পণে।

মন চায় -শেখ হামিদুল হক

মায়াময় পৃথিবীর ছায়াপথে

এগিয়ে চলেছি অজানার দিকে,

বৈরাগী রাতের সীমানা ছাড়িয়ে যুবতী

সকাল ভালোবাসার শিশির জড়িয়ে রাখে

তোমার সোহাগি ভালোবাসার মত।

আমাদের ভালোবাসা গোলাপের পাপড়িতে

দোল খায়,

আদুরে স্বপ্ন মাছরাঙা ঠোঁটে বাতাসের

শূণ্যতায় ভেসে যায়,

মন চায় তোমার বুকের মাঝে আদরের

কাশফুল বিছিয়ে দিতে,

পূর্ণিমার আলোর বুকে নির্লিপ্ত ভালোবাসার

পাঠশালায় খুঁজে পাই পূর্ণতার ঠিকানা।

ধনী গরীবের ঈদ-রাশিদা আখতার লিলি

বড় লোকের ঈদ মানে
ফিরনী, পোলাও, জর্দা ভাতের
ঘ্রাণে বাড়িময় ভরপুর।
আনন্দ উল্লাসের জলসা।

বড় লোকের ঈদ মানে
নামীদামী  গাড়ীতে চড়ে
নতুন নতুন কেনাকাটায় মশগুল।

বড় লোকের ঈদ মানে
রঙে,ঢঙে,ফ্যাশনে
হাজার হাজার টাকার অপচয়।
অথচ গরীবের কান্নায়
গলে না হৃদয়।

গরীবের ঈদ মানে
চাঁদ দেখার পর থেকে
সারা রাত জেগে থাকা।
কত আশা কত ভাষা বুকে নিয়ে,
শুধু কল্পনার তাজমহল গড়া।
ছেলেমেয়েদের পাতে
একটুকরো মাংস
জুটবে কি,জুটবে না,
এই নিয়ে কত ভাবনা।

অবশেষে ভোর হয়, গরীব বাবা গোসল সেরে
পুরানো পান্জাবী পাজামা পরে ঈদগাহে যায়।
দুটাকার লাল ফিতা আর পাঁচ টাকার জিল্যাপী কিনে
গরীব বাবা এসে বলে  –
অনেক কিছু এনেছি চন্দন।
ওদের মাঝে তবুও আছে
অনেক স্নেহ আদর,ভালবাসার বন্ধন।

ইন্টারভিউ জীবন অতঃপর -ড. শাহনাজ পারভীন

ইফাজ ইন্টারপ্রাইজের উত্তেজনাকর ভাইভা বোর্ডের সকল সদস্যই সক্রিয়। বোর্ডের সভাপতিসহ  প্রতিটি সদস্যেরই রয়েছে ব্যক্তিগত পছন্দের ক্যা-িডেট। তুলকালাম কা- চলছে একেকজন প্রার্থীর ভাইভাতে। কে কার ক্যান্ডিডেটকে পেছনে ফেলে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে পারেন তার প্রতিযোগিতায় ভিতরে ভিতরে কন্টকাকীর্ণ। ইফাজ ইন্টারপ্রাইজের ইঞ্জিনিয়র থেকে শুরু করে প্রাইভেট সেক্রেটারী এবং ইফাজ ব্রিক্স এর ম্যানেজার,  ড্রাইভার, কেয়ারটেকার থেকে ক্লিনারসহ প্রায় পঞ্চাশজনের নিয়োগদানের জন্য তিনটি বোর্ড বসেছে নিজস্ব হলরুমে। দেশের বাঘা বাঘা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে একেবারে স্বশিক্ষিত মধ্যবয়সী নারী-পুরুষ  পোর খাওয়া জীবনকে পেছনে ফেলে এতে অংশ নিচ্ছে।

ইফাজ ইন্টারপ্রাইজের প্রধান উপদেষ্টা এই তিনটি বোর্ডের প্রধান কেমব্রীজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচ. ডি ডিগ্রিধারী অত্যন্ত  সুন্দরী স্মার্ট  ড. আবেদা সুলতানা বোর্ডগুলো ঘুরে ঘুরে দেখছেন।  তীক্ষè দৃষ্টিতে ভিডিও করছেন ভাইভা বোর্ডের চলচ্চিত্র। তিনি প্রথমেই প্রথম বোর্ডটাতে ঢু মারেন। ওখানে একজন প্রতিযোগীকে প্রথম প্রশ্নটা করছেন বোর্ডের একজন কর্মকর্তা-

: আপনি তো সাহিত্য নিয়ে পড়েছেন। বলুন তো, নাইপলের ‘জেসমিন ফুল’ আর ‘ জেসমিন’ শব্দটির মধ্যে মূল পার্থক্যটি কোথায়?

: ধন্যবাদ, এটা এমন একটা উপমা যেমন ‘ডেফোডিল’ না দেখে উডস্ওয়ার্থ পড়ার মত। বিষয়টি আমি আর একটু ক্লিয়ার করার চেষ্টা করছি। যেমন সাঈদ লিখেছেন নাইপলের একটি প্রবন্ধে আছে- লেখক ব্রিটিশ গায়ানার একটি বাগানে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করছে একটি ফুলের নাম। যেই ফুলটির গন্ধ তার চেনা। একজন বয়স্ক মহিলা বললেন-আমরা একে জেসমিন বলি; নাইপল বলছেন-তার মানে আমি এই ফুলটিকে অনেক বছর ধরে চিনি। আমার কাছে এতদিন এই নামটি বইয়ের শুধু একটি শব্দ যা আমি চিনতাম…। কিন্তু ফুল আর শব্দটি আমার মন থেকে দীর্ঘদিন বিচ্যুত থাকার ফলে আমি এই ফুল এবং তার গন্ধকে এক সঙ্গে করতে পারি নি।

আমাদের জীবনে এর সাদামাঠা ব্যাখ্যা আছে। জেসমিন- শেফালি  যেটাই বলি না কেন মূলত আমাদের ঐতিহ্যের শেকড় থেকে আস্তে আস্তে সরে আসা।

: চমৎকার! আপনি মূল জায়গা ধরে টান দিয়েছেন। এবার পহেলা বৈশাখ সম্পর্কে কিছু বলুন। বিশেষ করে এর চেতনা…

: ধন্যবাদ। পহেলা বৈশাখের শেকড় ঠিক কবে আমাদের চেতনার সাথে মিশেছিল তার সঠিক ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। ষোড়শ শতাব্দিরও পরে অষ্টাদশ শতাব্দিতে আমরা ভারত চন্দ্রের কাব্যে  বৈশাখের বন্দনা পাই। ষোড়শ শতাব্দিতে মুকুন্দরাম লেখেন-

‘ধন্য অগ্রহায়ন মাস

ধন্য অগ্রহায়ন মাস’ অগ্রহায়নকে কেন্দ্র করেই। আর ভারতচন্দ্র লেখেন- ‘ বৈশাখ এদেশে বড় সুখের সময়’ সেই থেকেই বাঙালির প্রাণের উৎসব এটি। বিশেষ করে এদেশের সবচাইতে ধর্মনিরুপেক্ষ সর্বপ্রধান অনুষ্ঠানের পরিধি লাভ করেছে বৈশাখ।

ভাইভা বোর্ডের অন্য সদস্যরা বুঝতে পারছিলেন না ইফাজ ইন্টারপ্রাইজের প্রাইভেট সেক্রেটারিয়েট পদটার জন্য এ প্রশ্নগুলো কী খুবই প্রাসঙ্গিক কিনা? অন্য একজন কর্মকর্তা সুযোগ বুঝে অন্য প্রশ্নটি মেলে ধরেন।

: আচ্ছা, আপনার রেজাল্ট তো খুব ভালো। আপনি অন্য কোন প্রফেসনে না যেয়ে প্রাইভেট ফার্মের দিকে ঝুঁকলেন কেন?

: এই রকম একটা প্রাণোস্পর্শী প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আগাগোড়াই শিক্ষক হওয়ার ইচ্ছা ছিল আমার। এজন্য সাহিত্য নিয়ে পড়াশুনা করলাম। লেখক হয়ে উঠারও চেষ্টা রয়েছে। লেখক হওয়ার জন্য শিক্ষক পদটা বড় প্রয়োজন। কিন্তু মায়ের যা সম্বল ছিল তা বিক্রি বাট্টা করে ইউনিভার্সিটির শেষ ধাপটা পার করিয়েছেন। পড়ানোর চাকুরিটার জন্য লক্ষ লক্ষ টাকার যোগান দিতে সে অপরাগ। তাই ইচ্ছের বিরুদ্ধেই এখানে আসা।

: তার মানে আপনি এর চেয়ে কোন ভাল চাকুরি পেলে এটাতে ইস্তফা দিতে পিছপা হবেন না?

: বিষয়টা ঠিক ঐ রকম নয়, তবে… তাছাড়া এখানে আমার যোগ্যতার মূল্যায়ণ হবে বলে আমার বিশ্বাস।

মেয়েটির সপ্রতিভ  উত্তর আবেদা বেগমের বেশ ভাল লাগলো । এখানকার সদস্যরাও বেশ অভিজ্ঞ বলে মনে হচ্ছে তার। উনি পায়ে পায়ে এগিয়ে যান দ্বিতীয় বোর্ডটাতে।

দ্বিতীয় বোর্ডের ক্যান্ডিডেটদের মৌখিক পরীক্ষা শেষে প্র্যাকটিকাল পরীক্ষার জন্য আনা  হয়েছে ইফাজ ইন্টারপ্রাইজ মালিকের বাসা ঝিঙেফুল’ এ। এখানে পাঁচতলা মুল বিল্ডিং এর  দোতলা বেশ খানিকটা বাড়ানো।  পদ্মা ইঞ্জিনিয়ারিং এর এক্স এন ইঞ্জিনিয়র নিজে হাতে করেছিল এর প্লান। ম্যানেজার, সুপারভাইজার, টিউটর,  ড্রাইভারের জন্য এ্যাটাচ্ড বাথ, বারান্দাসহ চারটে রুম। নীচের অংশে গাড়ি রাখবার ব্যবস্থা। বেশ ঘোরানো, পেঁচানো। ওখানেই মালিকের নিজস্ব সসার জীপ, ওয়াইফ- বাচ্চাদের জন্য দুটো মার্সিডিজ।ওখান থেকে যে একটা গাড়ি কোন ঝামেলা ছাড়াই সুন্দর ভাবে একবারে বের করে আনতে পারবে  তাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে। এজন্য সকলেই তাদের শ্রেষ্ট কৌশলের আশ্রয়ে নিজেদের মেধার পরীক্ষা দিতে প্রস্তুত।

অন্য আর একটা বোর্ডের দিকে পা বাড়ান ড. আবেদা সুলতানা। তৃতীয় বোর্ডটাতেও  ইন্টারভিউ নিতে সকলে মহা ব্যস্ত। 

: আপনার নাম?

: আমেনা বেগম। তয় আমারে সবাই আমিরন কয়।

: পিতার নাম?

: ইমান আলী বিশ্বাস।

: আপনি দরখাস্তে উল্লেখ করেছেন আপনার বয়স ত্রিশ। এটা কী ঠিক? আমার তো মনে হয়…

: ছার এডাই ঠিক। আমার বয়েস ত্রিশ অইবেই। হ, ছার যুদ্ধু তো আমি দেকছি।

: যুদ্ধ দেখছেন মানে ’৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধ?

: হ ছার, তহন তো আমার বিয়ে অইচে।

:  বিয়ে হয়েছে মানে? তার কতদিন আগে আপনার বিয়ে হয়েছে?

: তহন আমার ছেলেডা আর মেয়েডা অইচে। আর যেই ছেলেডা বুবুক্কে মরলো হেইডা ছিল প্যাডে।

: তার মানে যুদ্ধের বছর দশেক আগে আপনার বিয়ে হইছে?

: না, না, অত অবে না ছার। যুদ্ধুর সাত বছর আগে আমার বিয়ে অইছে। বিয়ের তিন বছর পর আমার প্রথম ছাওয়ালডা, তার দুই বছর পর মেয়েডা।

: কত বছর বয়সে আপনার বিয়ে হয়েছে?

: অত কি আর মনে আছে ছার? কম বয়সেই বিয়ে অইচে। এখনকার মায়েগের মত গরে বেছন রাকতো না ছার। সাবালক অইছি বার তের বছরে তার তিন চার বছর পরই বিয়ে অইছে।

: বুঝেছি, আপনার বয়স তো পঞ্চান্ন ষাটের মাঝামাঝি কিন্তু চুল তো পাকি নি একটাও…

: কী যে কন ছার, আমার মার তাই পাকিনি। আমার নানীরও পাকিনি। আমার তো তাও একটা দু’একটা পাকছে। পাকপেই বা না ক্যান। নানান চিন্তাই আমার মাথা গরম।

: মাথা গরম হবে না। আপনার বয়স ষাট, লিখেছেন ত্রিশ।

 খেই হারিয়ে ফেলেন যেন ইন্টারভিই নিতে এসে। সামান্য একটা পোষ্ট, এখানেও কত ক্যান্ডিডেটের ছড়াছড়ি, যোগাযোগের দৌঁড়াদৌঁড়ি…

: আমি কি আর অত কিছু জানি ছার? আমারে যা জিগালেন আমি তার উত্তর দিলাম। এইবার আমি আপনাগেরে এট্টা প্রশ্ন জিগাই ছার-

অন্যপক্ষকে কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়েই শুরু করে আমেনা –

: আমারে কইছে রানতে অইবো, ঘর অপিস দেখে রাকতে অইবো। অফিসের লোকজন সব খাবে, থাকপে। তা আমার বয়সখান নিয়া অত টানাহ্যাচড়া করতেছেন ক্যান ছার? আমারে জিগান আমি রানবার পারি কিনা? আমি ছার ভালোই গোস -পুলাও- সব পারি। সোয়ামির হোটেল ছিল। আমিই তো সব করতাম। সে সব না, কনে আমার বয়স কত?

আমেনা বেগমের মেজাজখানা চড়ে গেল ওদের কৌশল দেখে। ও তো ভাবছে উনারা ওর জীবন নিয়া গল্প শুনতাছে। তা না, অহন দেহি, গল্পে গল্পে বয়সের হিসাব কষতাছে। তাইলে কী আর ঐসব গল্প করতাম। মনে মনে বলে আমার কী এমন বয়স। বয়স যদি দেখবার চান তো মওলানা সাহেবের বউয়ের বয়স দেহন লাগে। কত যে বয়স…। তার ছেলের বয়স চল্লিশ…তার বয়স পয়ত্রিশ। বোঝো ঠেলা? আমি কি আর তাই নাকি? ঐ যে যুদ্ধু ও তো সবারই জানা। কারো বয়স কেউ ঢাকপার পারবি না। আমেনার নিজের চুল নিজেরই ছিঁড়তে ইচ্ছে করে। চাকরি অবে না, তা না অবে। ঢেকি স্বর্গে গেলিও লাতি খাতি অয়। তো কাম-কামই। বাসা বাড়ির কামও কাম, অফিসির কামও কাম। ঐ অলো। আইছি কম ঠিক করতি আর ঊনরা  বয়েস নিয়ে করছে টানাটানি। কি যে দ্যাশটা অইলো? এই বুড়ো বয়সে আমি বয়েস দিয়ে কি আর করবো?  আমার এক পা তো রইচে গোরে।

: এইবার কন দেহি ছার, আমার চাকরিডা কী অইবো?

আমেনা শান্ত হয়। ভেতরে ভেতরে খানিকটা আশাবাদীও। যা হোক, মুকির উপর দুটো কতা তো কইছে সে।

: আপনার বয়স যদি ত্রিশ হতো, আমরা চেষ্টা করতাম, কিন্তু আপনার বয়স তো দ্বিগুন।

: আবার ঐ একই কতা? আমার বয়েস দিয়ে কী করবেন ছার? একি আর সরকারী চাকরি যে বয়েস লগবি?

: ওসব আপনি বুঝবেন না, এই চাকুরির জন্য আপনি কাকে ধরেছেন?

আমিরণ বিপাকে পড়ে যায়। এইটাতো কওন মানা। কিন্তু উনারা শুনলো কোন জাগাত্তে। মনে অয় উনারা সবই জানেন। মিত্তে কতা কয়েও কোন লাব নেই। এমনিতেও আমিরণ মিত্তে কতা কয় না। এই সৎগুন আছে তার। মনে মনে সাত পাঁচ ভাবে আমেনা।  সে স্পষ্ট বলল-

: কমিশনাররে দরছি ছার। মহিলা কমিশনার গুলজার বেগম আফারে-উনারে কইছি। বোজেন তো বয়েস অইচে। চাওয়ালডা দেহে না। মেয়েডাও গরীর। মা রইচে আমার কাছে। নানী রইচে। কী করব ছার। হঠাৎই হতাশায় আটকে যায় আমিরনের গলা।

: ঐ তো ঝামেলা। কিন্তু আপনার শরীরটাও  বেশ ভারি। এত মোটাসোটা যে বয়সটাও লুকানো যাচ্ছে না। আমরাই বা কি করব বলুন?

গুলজার বেগমের সুহৃদ তরুণ ছেলেটা আমিনা বেগমের মুখে যেন মায়ের আদল খুঁজে পায়।

: একদিকে মালিকের চাপ, অন্যদিকে…। এদিকে আপনাদের চাপ। চাপে চাপে আমরা তো কাহিল।

 নেক্সট…

আমেনা ভাইভা বোর্ড থেকে বেরোতে বেরোতে নিজের বয়সটাকে যেন অভিসম্পাৎ করে-

: হায় আল্লাহ, টাকা, পয়সা, রূপ, যৌবন না বাড়াইয়া শুধু বয়েসটাই বাড়াইলা…

ড. আবেদা বেগম আমেনা বেগমের কথায় হুঁচোট খায়। চোখ যায় নিজের শরীরের দিকে। তার বয়সও আমেনা বেগমের মতই। কিন্তু টাকা- পয়সা, রূপ- সৌন্দর্য সবই বেড়েছে শুধু বয়সটাই যেন বাড়েনি তার!

এলো খুশির ঈদ-আহাদুর জামান

ঈদ এলো খুশির ঈদ এলো,

ঈদের খুশিতে মন ভরে গেল;

ঈদের চাঁদ উঠেছে রোজা হলো শেষ

একটি বছর পর সবার মনেতে খুশির রেশ।

ঈদের পবিত্র দিনে বহে খুশির বান,

নাই ভেদেভেদ ধনী-গরিব সবাই সমান।।

ঈদের নামাজ শেষে মোনাজাত করি

মহান আল্লাহ যেন সকল বিপদ দেয় দূর করি।

ঈদের নতুন আবহে সকল দুঃখ কষ্ট, জরা ব্যাধি যাক দূরে,

নির্মল আনন্দ আর শান্তিতে বিশ্ব যাক ভরে।।

আজি এই পূর্ণ দিনে সকল হিংসা বিদ্বেষ ভুলে….!

ধর্ম-বর্ণের বেড়াজাল ছিঁড়ে মানুষে মানুষে প্রাণে প্রাণে যাই মিলে।।

ঈদ হলো খুশি আর মিলনের উৎসব বড়ই পবিত্র মহান,

মনের কালিমা ধুয়ে ফেলে মানবতার পূর্ণ প্রেমে ভরে লই এই প্রাণ।।

বিদায় শেষে-স্মৃতিকণা অধিকারী

চাইলেই যায় না রাখা যারে

মনের খাতায় বারে বারে

ধরে রাখি তারে।।

হে চির পথিক,

জীবন পথে চলতে গিয়ে

আসবে কত বাঁধা

বিচিত্র পথে ডাক শুনে

লাগবে মনে ধাঁ-ধাঁ।

মনের খাঁচায় বারে বারে

ধরেই রাখি তারে।।

হে আলোর সন্ধানী,

তোমার ভূবন আলোকিত করিতে

প্রদীপ জ্বেলে রাখি

দিবস শেষে সন্ধ্যার আধারে

তুমি খুজে পাবে জ্যোতি

সেই আশায়; এই বিদায়।।

হে চিরচেনা,

বিজয়ীর বেশে

এসো ফিরে

স্বদেশ মাতার নীড়ে।

তোমায় খুজে পায় যেন সবে

সকল কিছুর ভীড়ে।

তাই, বারে বারে মনের খাতায়

ধরেই রাখি তারে।।