Home » কবিতা

কবিতা

মোস্তাফিজুর রহমান‘র কবিতা

ওগো শেখ মুজিবুর রহমান

গরীব দুঃখীর বেদনায় ব্যথিত হৃদয়

গণমানুষের অধিকার আদায়ে এক অকুতোভয়

লড়াকু সৈনিক সাহসী বীর সন্তান।

অনিয়মের বিশাল যুদ্ধে অসীম অভিযান;

মানুষকে ভালোবেসে, ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে

সহস্র সংগ্রামে বঞ্চিতের অধিকার আদায়ে;

পিছুপা হটেনি যেই বলিষ্ঠ নেতৃত্ব

স্বরণযোগ্য সেই আদর্শ প্রতিটি মুহূর্ত।

মুক্তির বার্তায় করেছ আজন্ম ঋনী

এই ঋন হবেনা শোধ কোনদিনই,

পিতা তোমার অস্বাভাবিক চলে যাওয়া!

কোনোভাবেই কোনোকালে যায়না মেনে নেওয়া

নিশ্চিহ্নে তোমায় ঘৃনিত তারা সর্বজনে

চির অম্লান তুমি বাঙালি প্রাণে।

তুমি শ্রেষ্ঠ তুমি মহান

তুমি বাঙালি তুমি অম্লান

ওগো শেখ মুজিবুর রহমান।

গোলাম মোস্তফা মুন্না’কবিতা

ঘুঘুর পায়ে শব্দে

শারদের ঘুঘুর পায়ে

প্রতিদিন ভোরে

ঘুম ভাঙবে বলে

শরৎকালীন প্রার্থনা ছিল প্রতিটি মুহূর্তে

ভেঙে ভেঙে চোখ গুলো নিয়ে এগিয়ে এসেছি।

ভাবনার জগতে বলাকার মত উড়িয়েছি শতবার

সোনা মাখা রোদে কতশত পারদে পরোক্ষ করেছি।

একদিন আসবে

সেই শব্দ।

যে শব্দ গুলোর জন্য সব কাঁশফুল ফেঁকে হয়ে আছে

রূপ রস গন্ধ যেন বিতৃষ্ণা জড়িয়েছে কোন না কোন সময়

বিয়োজন গুলো সব আয়োজন হয়ে

ঘুঘুর পায়ে শব্দ আসবে-

শাহরিয়ার সোহেল‘র কবিতা

অলৌকিক-লৌকিক

জমিনকে ধরে রাখে পানির স্তর

পানির ওপর ভাসছে ভূমি

ভূমির ওপর উদ্ভিদ ও প্রাণীকূল প্রসারিত

মাথার ওপর পিলারহীন আকাশ

শূন্যে ঝুলন্ত সপ্তম স্তর

ছাতার মতো রক্ষা করে প্রাণ

সূর্যের প্রবল রশ্মিকে করে প্রাণবন্ত

সব কিছুই শূন্যে ভাসমান

শূন্য ধারণ করে সব কিছু

শূন্যর ওপর অস্তিত্ব আমাদের

স্বপ্ন থেকে বাস্তবের দিকে যাত্রা

কিছুনা থেকেই হ্যাঁ এর জন্ম

অলৌকিক রূপান্তরিত লৌকিকে ধাবমান

কবিতাগুলো একান্ত স্ত্রীর মতো

আমার কবিতাগুলো আমাকে দেয়না শান্তি

আমার কবিতাগুলো আমাকে দেয়না শান্তি

যেভাবে আমার স্ত্রী মারা গেছে সন্তানের জন্ম দিতে যেয়ে

তবু কী আশ্চর্য স্বাভাবিক! গহীণ অরণ্যে

ক্যাঙ্গারু বাচ্চাকে পেটের ভেতর নিয়ে দুর্দান্ত দৌড়ায়

বৃষ্টি হবার প্রারম্ভে যে বাতাস বয়ে যায়

তা আজও জাগায় শরীরে রোমাঞ্চ

শুধু স্মৃতি শুধু পড়ে থাকে এক মুঠো ধুলো

ধূসর কুয়াশা ঘিরে একখানি মুখ

কন্টকিত পতাকার ন্যায় রঙিন বিষাদ

এমার একান্ত স্ত্রী আমার কবিতাগুলোর মতোই নিঁখুত

আমার কবিতাগুলো আমাকে দেয়না শান্তি

পত্রহীন তৃষিত মগ্নতায় হিম শীতল আগুন

জি এম মুছা‘র কবিতা

 

 

জাতিকে আর কত অপেক্ষা করতে হবে

 

গভীর এক ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছিল  সেদিন বিশ্বাসঘাতক মোস্তাক শাহীর দোসররা, চিরতরে দেশ জাতিকে ধ্বংসের পরিকল্পনায় লিপ্ত হয়েছিল, উৎশৃংখল একদল বিপথগামী সেনা সদস্যরা। হঠকারী সিদ্ধান্তে পনেরেই আগস্ট উনিশ ‘শ পচাত্তর, রাতের শেষ প্রহরে, আঁধার তখনও কাটেনি, পূর্ব আকাশে সূবে-সাদেকের অপেক্ষায়, হয়তোবা অঘোরে ঘুমোচ্ছিল দেশসুদ্ধ মানুষ, সঙ্গে ছোট্ট শিশু রাসেল ও তখন বঙ্গমাতার বুকে মুখ লুকিয়ে ঘুমে অচেতন। দিনের আলো ফোটার বেশ খানিকটা বাঁকি, আচমকা গুলির শব্দে কেঁপে উঠল সবাই , নরপিশাচদের বুলেটের আঘাতে বক্ষ বিদীর্ণ করলো অবিসংবাদিত নেতা কালের কিংবদন্তি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালির সন্তান বঙ্গবন্ধু জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সকলকে অত্যন্ত নিষ্ঠুর নির্মম ও নৃশংস ভাবে জাতির শত্রু দুস্কৃতিকারীরা হত্যা করেছিলো। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই শত্রুর ছোড়া মুহুর্মুহু গুলির আঘাতে বুকের তাজা রক্তে রঞ্জিত হলো ধানমন্ডির বত্রিশ নম্বর বাড়ির সবকটি ঘর, সিঁড়িতে বয়ে গেল রক্তের প্লাবন, ক্ষমা করিনি বঙ্গমাতাকে, কামাল ,জামাল নব পরিণীতা রোজী জামাল, সুলতানা কামাল কেও, রক্তপিপাসু বর্বর খুনিরা ছোট্ট শিশু রাসেলকেও ক্ষমা করেনি সেদিন, কি অপরাধ ছিল তাঁর? বাড়িটি ঘিরে শুরু হয়েছিল মহা এক হত্যাযজ্ঞের রক্তের হোলি খেলা, এখানেই শেষ নয় হত্যাযজ্ঞের পর উৎসব পালনে এই খুনিরা ট্যাংক লরি, সাঁজোয়া বহর নিয়ে রাস্তায় নেমে উল্লাসে ফেটে পড়েছিল রাজধানীর অলি গলি জুড়ে। ভোর হতে না হতেই গোটা দেশজুড়ে নেমে এলো ভয়ঙ্কর বীভৎস কালো মেঘের ঘনঘটা, দিশেহারা সাধারণ মানুষ, অজানা আশঙ্কায় ভীত সন্ত্রস্ত গোটা দেশবাসী, তারপর যা ঘটলো আমাদের সকলের তা জানা। সে এক মর্মান্তিক করুন ইতিহাসের কালো অধ্যায়ের সৃষ্টি হলো। দেশ ও জাতির সে কলংকমুক্ত করতে জাতিকে অনেকটা বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল, অধীর আগ্রহে আজও জাতি প্রহর গুনছে, সম্পূর্ণ কলঙ্কমুক্ত করতে জাতিকে আর কত অপেক্ষা করতে হবে?

 

রাজ পথিক‘র কবিতা

মুহ্যমান ১৫ই আগষ্ট

 

হে কবি… লিখে দিও একটি দামাল স্বপ্নের গান শ্যামল গাঁয়ের সুবোধ খোকাটির, প্রেমিক হয়ে ওঠার গান। দেশ প্রেমে অমর কীর্তিগাঁথা যার অবদান, মাটির সোঁদা গন্ধে – দেশ ও জাতির মঙ্গলে সদা ব্যাকুল ছিলো যার পরান।

কবি…একটা গান লিখো, দ্রোহের গান যে গানে ভাসবে সুর, সেই বজ্র কণ্ঠের আহ্বান। আপন সুখ ভুলে যে কণ্ঠ, বাঁচাল দেশের মান বিশ্বের বুকে আমরা পেলাম ‘স্বাধীন বাংলা’র সম্মান।

একটা গান লিখো কবি, বিজয়ের গান… প্রতিটি অন্তরায় রবে শেখ মুজিবুর রহমান। শেষের অন্তরায় রেখো কবি, পাঁজর ভাঙা শোকের টানৃ

বিশ্বাস ঘাতক, মুনাফেকের দল… নির্মম বুলেটে কাড়ল জাতির পিতা’র প্রাণ। ১৫ই আগষ্টের সেই কালরাতে অসমাপ্ত গান লিখতে বসে কবি নিজেই শোকে মুহ্যমান।

 

অদৃশ্য মারণাস্ত্র

 

 

থমকে গ্যাছে পৃথবীর

অদৃশ্য মারণাস্ত্রে ধুকছে মানুষ,

হারাচ্ছে নিজস্ব সঞ্জীবনী।

এ য্যানো মহা প্রলয়ের

নিভৃতে চালানো তাণ্ডব।

থমকে গ্যাছে জীবন,

তেড়ে আসছে স্থিতি ধ্বস।

পৃথিবীর বুকে প্রজ্জ্বলিত সূর্যটা

করাল গ্রাসের চলছে আয়োজন।

জীবনের তাগিদে চাই যুদ্ধৃ.

প্রাত্যহিক যুদ্ধের প্রয়োজন।

চাই গণজাগরণ-.

ঘাতক করোনা’কে রুখতে

সচেতনতাই একান্ত প্রয়োজন।

 

শাহ‌রিয়ার সোহেলর কবিতা-আম্পান

আম্পান
শাহ‌রিয়ার সো‌হেল

হঠাৎ এলো এক মহানায়ক আম্পান
লন্ডভন্ড করলো কলা, লিচু, আম, পান
ভয়‌তে কুঁকড়ে উঠল মহাপ্রাণ
কে দেবে সুষ্ঠুভাবে কিছু ত্রাণ
এ দু‌র্যো‌গে কে কী চান ?
নেতারা এসব নি‌য়ে করছে ফান
ক‌ষ্টে জীবন হ‌লো খান খান
ম‌নে আসেনা সু‌খের কোন গান
কোথায় গেল সব জা‌নের জান ?
সবকিছু ভাসালো কঠিন বান
নষ্ট হলো পাকা ক্ষেতের ধান
লজ্জা লা‌গে গ্রহণ করতে সামান্য দান
বা‌নের সাথে ভেসে গেল সকল মান
আট ঘন্টার তান্ডব চালা‌লো দানব আম্পান
‌থে‌মে গেল সু‌খের লহরী সু‌রের তান !

শেখ হামিদুল হকের কবিতা-রুখতে হবে

 

রুখতে হবে

শেখ হামিদুল হক

কর্মহীন সকল মানুষ আছে গৃহবন্দি,

খাদ‌্যাভা‌বে পে‌টের সা‌থে কর‌ছে নিত‌্য স‌ন্ধি।

ছুট‌ছে সবাই ত্রাণের জন‌্য ত্রাণ দাতার বা‌ড়ি,

দাঁ‌ড়ি‌য়ে থা‌কে রো‌দের বু‌কে অভা‌বীদের সা‌রি।

সবার ভা‌গ্যে জুট‌বে না ত্রাণ দ‌লের লোক ছাড়া,

ঘোষক ব‌লেন, না শুন‌লে লা‌ঠি মে‌রে তাড়া।

হতাশ সু‌রে ব‌লে সবাই,দল আমাদের নাই,

সকাল থে‌কে সন্ধ‌্যাবধি গতর বে‌চে খাই।

লোক লজ্জায় কেউবা আবার কষ্ট চে‌পে রা‌খে,

কেমন ক‌রে ঘুঁচ‌বে এ ভার দিন রা‌ত্রি ভা‌বে।

‌দে‌শের প্রধান দি‌শেহারা জনগ‌ণের ক‌ষ্টে,

লু‌টেরার দল ব‌্যস্ত আছে দেশের সম্পদ নষ্টে।

বঙ্গবন্ধু ব‌লে‌ছি‌লেন,পে‌য়ে‌ছি চোরের খ‌নি,

চুরি ক‌রে সেই চো‌রেরা হ‌চ্ছে সবাই ধনী।

রুখ‌তে হ‌বে অপকর্ম আমার দে‌শের জন‌্য,

স্বাধীনতার সুফল পে‌য়ে সবাই হ‌বে ধন‌্য।

অ্যাড. শেখ তাজ হোসেন তাজুর কবিতা-ধনী গরীবের ঈদ

 

ধনী-গরীবের ঈদ

অ্যাড. শেখ তাজ হোসেন তাজু

এসেছে ঈদ,ওরে নাহি ধনী-গরিবের নীদ।

আছে যতসব ধনী,মুখে নিচ্ছে দিবারাত্রি ননী।

খুশিতে ছড়াচ্ছে মানি কখনো দেখছে না গুনি।

যে দরিদ্র,কুলি মজুর,মুটে বেড়াচ্ছে দিনরাত ছুটে।

রোড,ঘাট,পাড়া এ বাড়ী ও বাড়ী বেড়াচ্ছে ঘুটে,

যদি এ ঈদে পরিবারের তরে ভালো কিছু জোঠে।

সকালে খেয়ে পান্তা থাকছে মাথাভরা চিন্তা,

পিতা-মাতা, স্ত্রী, পুত্র,কন্যা পরিজন,চেয়ে আছে কখন

নতুন,জামা, পাঞ্জাবি নিয়ে বাড়ি ফিরবে বাপ ধন।

বাঁপধনের আছে মন, পরিবারের তরে কিছু নিয়ে

আসবে বাড়ি, কিন্তূ ধনী মৌলভী সাব পড়েছে

কোরআন,হাদিস,রেখেছে দাঁড়ি,ফিতরা জাকাতের

নামে ছাড়ছে না কোন মালকড়ি। রেখেছে দারোয়ান,

গাড়োয়ান, কিনেছে লুঙ্গি,শাড়ী,রেখেছে কিছু দারোয়ান

ঘুরাচ্ছে তারা ছড়ি তাই যাকাতের বদলে বাপধনের

পিঠে পড়লো বাড়ি। কাঁদিতে কাঁদিতে বাপধন ফিরলো

বাড়ি, ঈদের দিন চুলায় উঠলো না হাঁড়ি। পিতা-মাতা,

স্ত্রী, পুত্র, কন্যা, পরিজন সকলে মিলে একঘরে বসে

শুরু করলো ক্রন্দন। ক্রন্দন শুনে ধনী করলো পণ

সামান্য সাহায্য করে তোর যা কিছু ধন কেড়ে নেবে

এখন। নিত্য এ দৃশ্য দেখে এবার টলিছে আসমান

তাই তো এসেছে করোনা সহ আম্পান।যদি বাঁচিতে

চাও,জাকাত,ফিতরা যা কিছু আছে গরীবের পিছনে

বিলিয়ে দাও। যদি ঠিকমতো আদায় করো গরীবের

হক,আল্লাহ দয়া করিয়া তোমায় করিবে মাফ।

হে ‘কুন্জুস’, হে মৌলভী সাব সময় আছে এখনই চাও

পরম দয়াময় মহান আল্লাহর দরবারে মাফ

 

মোঃ সুমন রেজার কবিতা-ভিন্ন স্বাদের ঈদ

 

ভিন্ন স্বাদের ঈদ

মোঃ সুমন রেজা

ঈদের খুশি- ঈদের হাসি-শুভেচ্ছা বিনিময়,

আজ তার রঙ্গিন আবেদন ম্লান মনে হয় –

খুব ভোরে ঘুম ঘুম চোখে জেগে ওঠা অজানা আহ্লাদে,

সব আয়োজন আজ মলিন হয়ে মিশেছে অন্ধকারে –

সেমাই-চিনি-ফিরনী-পায়েশ কত রকমারি আয়োজন,

এখনো আছে তেমন তবে আবেগের বড্ড প্রয়োজন –

নতুন পোশাকের ঘ্রাণ নিতে নিতেই ফুরিয়ে যেত বেলা,

এখনো নতুন পোশাক ঠিক কিনি তবে ঘ্রানে অবহেলা-

সকাল সকাল স্নান সেরে উঠোন জুড়ে পায়চারি,

এখনো হয়তো হয় তবে সে আবেগ ভীষণ ভারি –

নারকেল কুরা আর বাদাম ভাজার গন্ধে চিত্ত হতো আকুল,

এখন গন্ধ ঠিকই আসে নাকে তবে মন হয় না ব্যাকুল –

নতুন পাঞ্জাবি, পাজামা ,জুতো আর টুপি দিয়ে মাথায়,

আতর দিয়ে ভিজিয়ে নিতাম মনের আসন পরম মমতায়-

অদ্ভুত এক আবেগমাখা অনুভূতি ছিল ঈদের সেলামীতে,

এখন সেটা ভিন্ন ভীষণ -ব্যস্ত সবাই উদ্ভট সংস্কৃতিতে –

তড়িঘড়ি করে যৎসামান্য মিষ্টান্ন উদরে চালান দিয়ে,

দ্রুত পায়ে ঈদগাহে ছুটি জায়নামাজটা কাঁধে নিয়ে –

বাতাসে ভেসে থাকতো সীমাহীন আনন্দের উল্লাসী আবাহন,

নাচতো সদাই মহানন্দে দিগন্ত প্রসারী মহাসুখে প্রাণোমন।

ঈদের নামাজ আদায় শেষে পরম দরদে চোখ কাঁপে মিটিমিটি,

কোলাকুলির হিড়িক পড়ে – যেন অপূর্ব এক সহানুভূতির চিঠি-

আর এখন এসেছে কি এক অদ্ভুত অপ্রচলিত রীতি,

খোলা হাতে করমর্দন করতেও মনে জাগে করোনার ভীতি –

কোলাকুলির কৌতুহলেও আজ মন দেয় না সাড়া,

হাজারো সুখের মাঝেও কমেনি করোনার প্রাণ কাড়া –

ঘরের চালেতে হুতুম ডাকে এখন অবিরত- অকল্যাণ এর সুর,

সামাজিক দূরত্বের নামে মন থেকে মন এখন থাকছে বহুদূর ,

ঈদের দীপ্তি কখনো না হোক ম্লান – আগামী দিনের আশা,

ভালোবাসায় ভরে উঠুক প্রান, মন আর প্রেম হোক চিত্তের ভাষা।

রাজ পথিকের কবিতা-অন্যরকম ঈদ

 

অন্যরকম ঈদ

 রাজ পথিক

এমন ঈদ আগে কখনো আসেনি,

আনন্দটুকু প্লাবনে ভেসে

শোকের নহর বহেনি!

বাঁধভাঙা খুশির দুয়ারে

শিকল বাঁধা পড়েনি।

সিয়াম সাধনে… মৃ্ত্যুর রোদনে,

বিচ্ছিন্ন মোনাজাত কভু হয়নি।

এমন ঈদ…আগে কখনো আসেনি!

সংযম তপস্যা সেরে…

একাপরে বিভেদ ভুলে,

এক কাতারে মোনাজাত

সৌহার্দ্যপূর্ণ মোলাকাত,

হৃদ্রতার উচ্ছ্বসিত আড়ম্বরে…

কুশলাদি বিনিময় করমর্দনে।

সবই নিষ্প্রভ আজ…

অদৃশ্য দানবের হানায়,

দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ কাটছে দিন-রাত।

তবুও সুস্থ হোক পৃথিবী…

ধরিত্রি’র বুকে ফিরুক শান্তি,

পবিত্র আলিঙ্গনে মিলুক প্রশান্তি।

ভালো থাকতেই একটা ঈদ,

কাটলো না হয় ঘরে বন্দি…।

জানালায় বসেই চাঁদ আর খুশির

এবারের মতো হোক সন্ধি।